বৈশাখী ঝড়ের কবলে লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় দুই উপজেলা রামগতি ও কমলনগর। গত দুই দিনের টানা বর্ষণে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। হঠাৎ শুরু হওয়া এই বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় নতুন করে পানিবন্দি হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। বিশেষ করে ভুলুয়া নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ প্রায় বন্ধ। এখন কালবৈশাখীর যে তাণ্ডব শুরু হয়েছে, তাতে এই বর্ষা মৌসুমে নদী খনন না হলে গত বছরের মতো আবারও ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেবে।
স্থানীয় মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, দুই দিনের বৃষ্টিতেই তো উঠানে পানি জমে গেছে। নদীটা যদি খনন করা না হয়, তবে এবার আমাদের সব শেষ হয়ে যাবে। আল্লাহই জানেন কপালে কী আছে!
শুধু ঘরবাড়ি নয়, ঝুঁকিতে রয়েছে কৃষকের কষ্টে বোনা ফসল। উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান অর্থনৈতিক ভিত্তি গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি এবং মাছের ঘের এখন অস্তিত্ব সংকটে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তাঘাট তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে উপকূলীয় অঞ্চলে পানিবন্দি হওয়ার আশঙ্কা। ভুলুয়া নদী খনন না হওয়ায় পানি নামতে বাধা। ফসলের ক্ষতি ও গবাদিপশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা। দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ ও নদী খননের দাবি।
উপকূলের মানুষ মনে করছেন, অকাল এই বর্ষণ আগাম সতর্কবার্তা দিচ্ছে। এখনই যদি নদী খনন ও পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই মৌসুমে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/জোই