হাওরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এতে তলিয়ে গেছে নিচু

2026-04-29T16:15:40+00:00
2026-04-29T16:15:40+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
হাওরে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি, তলিয়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:১৫ পিএম 
পানির মধ্য থেকে আধাপাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা। ছবি : সময়ের আলো
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে। এতে তলিয়ে গেছে নিচু এলাকার শত শত হেক্টর বোরো ধান। আগাম বন্যার আশঙ্কায় অনেক কৃষক পানির নিচ থেকেই আধাপাকা ধান কাটার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

জেলার হাওরবেষ্টিত ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার কাঁচা ও আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক তথ্যমতে, ঢলের পানিতে ইতোমধ্যে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান নিমজ্জিত হয়েছে। বছরের একমাত্র ফসল হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাওরের প্রান্তিক কৃষকরা।

Advertisement
গত ২৪ ঘণ্টায় ধনু ও বৌলাই নদীর পানি ইটনা পয়েন্টে ৪৯ মিলি মিটার মগরা নদীর পানি চামড়াঘাট পয়েন্টে ৬৩ মিলি মিটার, কালনী নদীর পানি অষ্টগ্রাম পয়েন্টে ৬৯ মিলি মিটার এবং মেঘনা নদীর পানি ভৈরব বাজার পয়েন্টে ৫৫ মিলিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বাড়লেও তা এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগাম বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে হাওরে চরম ধান কাটা শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। দ্বিগুণ মজুরি দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ফলে খেতেই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিকলী প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কিশোরগঞ্জে ১৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী আরও চার দিন এই বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগেও অষ্টগ্রামের আব্দুল্লাপুর হাওর জুড়ে ছিল সোনালী ধানের সমারোহ। কিন্তু খোয়াই নদীর পানি উপচে সেই হাওর এখন জনসমুদ্রের রূপ নিয়েছে। 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সাদিকুর রহমান জানান, ফসলের ক্ষতি কমাতে অন্তত ৮০ ভাগ পেকে গেলেই দ্রুত ধান কেটে ফেলার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

চলতি মৌসুমে কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলায় মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, যার বড় একটি অংশ হাওরের তিনটি উপজেলায়। এবার ১১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য অর্জনকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   হাওর  নদ-নদী  পানি বৃদ্ধি  বিস্তীর্ণ এলাকা  বোরো ধান  কিশোরগঞ্জ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: