দেশের তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশব্যাপী শুরু হতে যাচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ক্রীড়াঙ্গনে নতুন কুঁড়ির মতো এমন যুগান্তকারী, ইতিহাস সৃষ্টিকারী কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। আগামী ২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে এই ক্রীড়া মহোৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) সম্মেলন কক্ষে গণমাধ্যমকে এমন তথ্যই জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণসঞ্চার করতে এবং কিশোর-কিশোরীদের মাঠমুখী করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ সরকারের। নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মূল লক্ষ্য কেবল প্রতিযোগিতা নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মেধা যাচাই করে তৃণমূলের প্রতিভাদের বিশ্বমানের অ্যাথলেট হিসেবে গড়ে তোলা।
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সি কিশোর-কিশোরীদের জন্য সাজানো এই মেগা ইভেন্টে স্থান পেয়েছে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টের মতো আটটি জনপ্রিয় ডিসিপ্লিন। তৃণমূল পর্যায় থেকে দক্ষ খেলোয়াড় তুলে আনতে প্রতিযোগিতাটি পর্যায়ক্রমে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় স্তর পেরিয়ে ঢাকার চূড়ান্ত পর্বের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে। সরকারের এই উদ্যোগে দেশজুড়ে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।
১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী। রেজিস্ট্রেশনের দৌড়ে ১৫ হাজার ৩২৪ জন প্রতিযোগী নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে সিলেট জেলা। এরপরই চট্টগ্রাম এবং ঢাকার অবস্থান। দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ অঞ্চলে একযোগে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতা শুরু হবে।
২ মে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে সরাসরি উপস্থিত থেকে এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি ভার্চুয়ালি সারা দেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতে উপস্থিত হাজারো প্রতিযোগীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই নতুন যাত্রার শুভসূচনা করবেন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রতিভাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় তিনটি বিশেষ প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে ভর্তি এবং বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া ঢাকার ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বিকেএসপিগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। বাছাই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং স্বজনপ্রীতি রুখতে মন্ত্রী নিজে একজন সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ পর্যায়ে তদারকি করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম নিয়োজিত থাকবে।
অতীতের পরিকল্পনাহীন অর্থ ব্যয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এখন হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে।’ ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে সব ভুল-ত্রুটি শুধরে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি মন্ত্রী হিসেবে নয়, একজন খেলোয়াড় হিসেবে এই প্রতিভা বাছাই তদারকি করব।’ আমরা, আপনারা হয়তো থাকব না, কিন্তু এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। ক্রীড়াঙ্গন, ক্রীড়াবিদদের স্বার্থেই এটা চালু থাকার উচিত বলে মনে করেন আমিনুল হক।
‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কেবল একটি টুর্নামেন্ট নয়, এটি বাংলাদেশের ক্রীড়া সংস্কৃতির সংস্কারের এক সাহসী প্রচেষ্টা। যদি সঠিকভাবে এই প্রতিভাদের পরিচর্যা করা সম্ভব হয়, তবে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।
/কেএইচও