প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম আপডেট: ৩০.০৪.২০২৬ ৬:৩৯ পিএম
ইটের ভাটায় নারী শ্রমিক। ছবি : সময়ের আলো ১ মে মহান আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। বছর ঘুরে বিশ্বজুড়ে শ্রমিকের অধিকারের কথা বলা হলেও সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলাসহ চলন বিলাঞ্চলের শ্রমজীবী নারীরা আজও ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত। হাড়ভাঙা খাটুনি আর পুরুষের সমান শ্রম দিয়েও কেবল ‘নারী’ হওয়ার কারণে চরম মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এই অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া হাজারো নারী শ্রমিকরা।
এক সময় নারী শ্রমিকদের কেবল গৃহকর্মী হিসেবে ভাবা হলেও বর্তমানে চলন বিলাঞ্চলের নারীরা বহুমাত্রিক কাজে যুক্ত। কৃষি জমি, মাটি কাটা, মালামাল বহন, চাতাল, সড়ক নির্মাণ, রাজমিস্ত্রির জোগালি কিংবা ইটভাটা সবখানেই নারীর সরব উপস্থিতি। স্বামী, সন্তান ও সংসারের ঘানি টানার পাশাপাশি তারা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কাজ করে চলছেন। তবে কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সমান পরিশ্রম করলেও মজুরির বেলায় চিত্রটি একেবারেই ভিন্ন।
স্থানীয় নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় হতাশাজনক তথ্য। তাড়াশের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে এক জন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা মজুরি পেলেও সমান কাজের বিপরীতে নারী শ্রমিকরা পাচ্ছেন মাত্র ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা।
চলতি বোরো মৌসুমে তীব্র দাবদাহ উপেক্ষা করে মাঠে ধান কাটা ও শুকানোর কাজ করছেন নারীরা। সেখানেও বৈষম্য স্পষ্ট। সূর্য বেগম নামের এক নারী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রোদ-বৃষ্টি এক করে আমরা পুরুষের সমান কাজ করি। কিন্তু পুরুষ পায় ৭০০-৮০০ টাকা আর আমাদের দেওয়া হয় মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। আমরা নারী বলেই আমাদের শ্রমের দাম কম!
তাড়াশের বিভিন্ন ইটভাটায় কর্মরত নারীদের জীবন যেন ইটের মতোই পুড়ছে। ভাটারপাড়া এলাকার নারী শ্রমিকরা জানান, সংসারের অভাব আর ঋণের কিস্তি শোধ করতে তারা দিনে মাত্র ৩৫০ টাকা রোজগারে হাড়ভাঙা খাটুনি দিচ্ছেন।
সালমা খাতুন নামের এক শ্রমিক বলেন, সারাদিন কাজ করে পুরুষ যেখানে ৭০০ টাকা পায়, আমরা পাই ৪০০ টাকা। অথচ কাজে আমরা কোনো অংশেই কম নয়।
তবে এই অন্ধকারের মাঝেও কিছু ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের কালীবাড়ি এলাকার মেসার্স হাসান ভাটার স্বত্বাধিকারী মো. আব্দুর রহমান জানান, তিনি তার ভাটায় লিঙ্গভেদে কোনো বৈষম্য করেন না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নারী ও পুরুষ উভয় শ্রমিককে সমান মজুরি প্রদান করেন।
সময়ের আলো/জোই