মৌলভীবাজার পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে । এর আগে বৃহস্পতিবার কুলাউড়া থানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আতিকুর রহমান চৌধুরীর ছেলে মইনুল ইসলাম চৌধুরী সামাদ। তিনি স্থানীয় চৌধুরী বাজারের ব্যবসায়ী। অন্যদিকে রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত তাহির আলীর মেয়ে জেসমিন আক্তার।
পুলিশ সূত্র জানায়, কুলাউড়ার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তারের পারিবারিক বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা রয়েছে। স্বামীকে নাজেহাল করতে ইতঃপূর্বে জেসমিন আক্তার তার মেয়েকে মাহতাব মিয়া ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ তোলেন। এমনকি নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নেন। বর্তমানে স্বামী যাতে বিদেশ না যেতে পারে সেজন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে নগদ দুই লাখ টাকাসহ ব্যবসায়ী সামাদ চৌধুরীকে নিয়ে থানায় আসেন। ওইসময় থানায় চলছিল সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমানের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন। পরিদর্শনের সময় মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কুলাউড়া সার্কেল) মো. আজমল হোসেন, কুলাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় জেসমিন আক্তার তার স্বামীর বিদেশ যাওয়া বন্ধ করার জন্য সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন। একপর্যায়ে সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিন আক্তারের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের কাছে দিতে যান। এসময় জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে সামাদ ও জেসমিনকে টাকাসহ আটক করে পুলিশ।
আটকের ঘটনা নিশ্চিত করে কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সামাদ ও জেসমিনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, কুলাউড়া থেকে জেসমিন আক্তার নামের এক মহিলা বেশ কয়েকদিন থেকে আমার সঙ্গে দেখা করার জন্য মোবাইল ফোনে কথা বলেন। বৃহস্পতিবার সকালে সে মৌলভীবাজার আমার অফিসে এসে দেখা করতে চাইলে আমি তাকে কুলাউড়া থানায় এসে দেখা করতে বলি। ডিআইজি মহোদয়ের দ্বি-বার্ষিক পরিদর্শন শেষে ওই মহিলা সামাদ নামে এক যুবককে নিয়ে আমার সঙ্গে তার সমস্যার কথা বলেন। কথা বলার শেষে একপর্যায়ে সামাদ আমার হাতে একটি খাম দিলে সেটি খুলে দুই শত টাকার দুই বান্ডিল নোট দেখতে পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে টাকাসহ আটক করাই। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
/কহু