দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী এবার সিরিয়ার গোলান হাইটসে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। এজন্য বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকার এরই মধ্যে ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলারের একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট মনিটরের এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন জানানো হয়েছে, গত ১৭ এপ্রিল ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা এই পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এর লক্ষ্য হলো ওই এলাকায় ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো এবং ‘কাতজরিন’ নামের বিদ্যমান বসতিটিকে গোলান অঞ্চলের ‘প্রথম শহর’ হিসেবে গড়ে তোলা।
এইচআরডব্লিউর সিরিয়া বিষয়ক গবেষক হিবা জায়াদিন বলেন, ‘ইসরাইল একদিকে পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ দ্রুত বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সিরিয়ায় যুদ্ধাপরাধে সরকারি অর্থ ঢালছে। দখলকৃত এলাকায় নিজেদের জনগণকে স্থায়ীভাবে বসানো আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, যা দীর্ঘদিন ধরে বাস্তুচ্যুত সিরিয়ানদের জন্য গুরুতর প্রভাব ফেলবে।’
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, কোনো দখলদার রাষ্ট্র তার নিজস্ব বেসামরিক জনগণকে দখলকৃত এলাকায় স্থানান্তর করতে পারে না। ফোর্থ জেনেভা কনভেনশন-এর ৪৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, সিরিয়ায় সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দেশটির দক্ষিণ অঞ্চলে ইসরাইলের সামরিক তৎপরতা বেড়েছে। এবার সেখানে বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এইচআরডব্লিউ জানিয়েছে, সেখানে জোরপূর্বক উচ্ছেদ, বাড়িঘর ও কৃষিজমি ধ্বংস এবং এমন সামরিক অবস্থান তৈরি করা হচ্ছে, যাতে স্থানীয়রা আর ফিরতে না পারে।
অন্যদিকে, এইচআরডব্লিউ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্যসহ অন্যান্য দেশকে আহ্বান জানিয়েছে—ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি স্থগিত করা, অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করা এবং অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য।
/কেএইচও