যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগও গতি আনতে পারছে না পরিস্থিতিতে। তেহরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের ইঙ্গিত দিয়ে আবারও কঠোর অবস্থান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও কার্যত অগ্রগতি থমকে আছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তার সামনে এখন দুটি পথ- একটি কূটনৈতিক সমঝোতা, অন্যটি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ।
তবে ইরানের প্রস্তাবের কোন অংশে আপত্তি, তা খোলাসা করেননি তিনি। তার দাবি, তেহরান এমন কিছু শর্ত তুলেছে যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। একই সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিভক্তি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি সরাসরি ওয়াশিংটনে না পাঠিয়ে পাকিস্তানের মাধ্যমে পৌঁছানো হয়েছে। ইসলামাবাদ এটিকে তাদের ব্যাক-চ্যানেল কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখলেও সাম্প্রতিক অচলাবস্থায় তাদের ভূমিকা সীমিত হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা মনে করছেন, এখনো সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো- ইরান নিজেদের অবস্থান আরও কঠোর করছে, আর যুক্তরাষ্ট্র আপসের বদলে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ চাইছে।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি নিয়ে দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং দাম বাড়ছে দ্রুতগতিতে।
পাকিস্তানসহ আমদানি নির্ভর দেশগুলো ইতোমধ্যেই এর প্রভাব টের পাচ্ছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি আমদানির ব্যয় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে চাপ প্রয়োগের কৌশল নিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে গিয়ে ইরানকে অর্থ প্রদান করলে আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে। এমনকি মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ইরান প্রণালি ব্যবহারে ফি আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে, যা সম্ভাব্য চুক্তির অংশ হিসেবে আলোচনায় এসেছে। দুই পক্ষই আপাতত নিজেদের অবস্থানে অনড়। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক বিকল্প খোলা রাখছে, অন্যদিকে ইরানও কৌশলগত ছাড় দিতে নারাজ। ফলে কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এএডি/