মহান মে দিবসে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় ছুটি পালিত হয় তবে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে জুম্বো ব্যাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডে। শ্রমিকদের অভিযোগ হাজিরা কাটার ভয় দেখিয়ে এদিন তাদের কাজে যোগ দিতে বাধ্য করেছে কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (১ মে) রাতে উপজেলার ভটেরচর ব্রিজ সংলগ্ন ওই কারখানায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত ৮টায় শিফট শেষে শ্রমিকরা প্রধান ফটক দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। মে দিবসের মতো ছুটির দিনে কাজ করতে হওয়ায় তাদের চোখেমুখে ছিল ক্ষোভ ও হতাশার ছাপ।
কারখানায় কর্মরত এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘দেশের সব জায়গায় এক নিয়ম আর আমাদের কারখানায় ভিন্ন নিয়ম। জাতীয় নির্বাচনের দিনও আমাদের ছুটি দেওয়া হয়নি। আজ মে দিবসেও হাজিরা কাটার ভয় দেখিয়ে আমাদের কাজে আনা হয়েছে। অসহায় হয়ে আমরা ডিউটি করেছি।’
আরও পড়ুন
একই কারখানার এক নারী শ্রমিক আতঙ্কে নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আজ তো আমাদের বন্ধ থাকার কথা ছিল। কাজ শেষে এখন ফিরছি। আমার নাম লিখবেন না ভাই, নাম জানলে চাকরি থাকবে না।’
তবে শ্রমিকদের মধ্যে ভিন্ন মতও পাওয়া গেছে। একজনের দাবি, আসন্ন ঈদে একদিন বাড়তি ছুটির বিনিময়ে আজ তারা ডিউটি করেছেন। তার মতে, মে দিবসের চেয়ে ঈদের বাড়তি ছুটি তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের মানব সম্পদ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক জিএম মহিউদ্দিন বলেন, ‘মে দিবসে কারখানা খোলা থাকার কথা নয়। হয়তো জরুরি প্রয়োজনে বা বিশেষ কারণে সীমিত আকারে কাজ হয়েছে। তবে আমার জানামতে সব কর্মকর্তা-কর্মচারী যোগ দেননি।’
যোগাযোগ করা হলে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ‘মে দিবসে কারখানা খোলা রাখার কোনো বিধান নেই। এটি শ্রম আইনের লঙ্ঘন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের সাথে কথা বলা যেতে পারে।’
উল্লেখ্য, শ্রম আইন অনুযায়ী মে দিবস বাধ্যতামূলক ছুটির অন্তর্ভুক্ত হলেও অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান মালিকপক্ষ বিশেষ প্রয়োজনের অজুহাতে বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে শ্রমিকদের কাজে বাধ্য করে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে।
এএডি/