কিউবার ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘একতরফা দমনমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে কিউবা সরকার। হাভানার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপ কিউবান জনগণের ওপর ‘যৌথ শাস্তি’ চাপিয়ে দেওয়ার একটি হীন প্রচেষ্টা।
গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং জাতিসংঘের সনদের চরম লঙ্ঘন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, কিউবা কিংবা অন্য কোনো তৃতীয় দেশ বা সংস্থার ওপর এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো অধিকার ওয়াশিংটনের নেই। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের এই আক্রমণকে কিউবার জনগণ বীরত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে অপহরণের ঘটনার পর থেকেই ওই অঞ্চলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘পরবর্তীতে কিউবার পালা’ বলে হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলো। হোয়াইট হাউসের এক নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, কিউবার নিরাপত্তা বাহিনীকে সহায়তাকারী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী এবং কিউবা সরকারের সমর্থকদের লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এছাড়া কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কিউবাকে আন্তর্জাতিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।
চলতি বছরের শুরুতে ট্রাম্প কিউবাকে ‘অস্বাভাবিক ও অসাধারণ হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করে একটি জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করেন। এর আওতায় কিউবায় তেল সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। এই কার্যকর জ্বালানি অবরোধের ফলে কিউবার অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। দেশজুড়ে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন এখন চরম সংকটের মুখে।
অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি কিউবার ওপর সামরিক হামলার হুমকিও দিয়ে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এদিকে, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কিউবায় ট্রাম্পের সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষমতা খর্ব করতে মার্কিন সিনেটে একটি প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত সিনেট ৫১-৪৭ ভোটে সেই প্রস্তাবটি বাতিল করে দিয়েছে। এর ফলে কিউবাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সামরিক তৎপরতা শুরুর আশঙ্কা আরও ঘনীভূত হলো।
/কহু