ব্রহ্মপুত্র নদের বুকে বালাসী থেকে বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত একটি সড়ক ও রেলসেতু— এই স্বপ্ন দেখতে দেখতে কেটে গেছে দেড় যুগেরও বেশি সময়। ২০০৯ সাল থেকে দাবি উঠছে, আন্দোলন হচ্ছে, স্মারকলিপি জমা পড়ছে— কিন্তু সেতু আজও কাগজেই রয়ে গেছে।
শনিবার (২ মে) বেলা ১১টার দিকে গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার (গানাসাস) সামনে আবারও জড়ো হলেন মানুষ। ব্রহ্মপুত্র সড়ক ও রেলসেতু বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে শুরু হয় মানববন্ধন কর্মসূচি।
অ্যাডভোকেট আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জেএইচ মুজকুরি অনু, ইলিয়াছ হোসেন, গোলাম রব্বানী, এজাহান মিঠু, সামছুজ্জোহা, মাস্টার, মিজানুর রহমান মাস্টার, আজিজার রহমান, মৌসুমী আক্তার মিষ্টি, অ্যাডভোকেট সৈয়দ কামরুল হাসান লিখন, লুৎফর রহমান এবং রেজাউল করিম রেজাসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, একটি সড়ক কিংবা সেতু যোগাযোগব্যবস্থা শুধু দূরত্ব কমায় না— একটি অঞ্চলের শিল্প ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যও নির্ধারণ করে। গাইবান্ধাসহ রংপুর বিভাগের আট জেলা দীর্ঘদিন ধরে এই বৈষম্যের শিকার। ব্রহ্মপুত্রের ওপারে জামালপুর জেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি বিপণন এবং মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত চরম দুর্ভোগে পড়ছে।
বক্তারা আরও জানান, বালাসী থেকে খোলাবাড়ি পর্যন্ত সেতুর দূরত্ব মাত্র সাড়ে চার কিলোমিটার হওয়ায় নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হবে। ফলে এটি সরকারের জন্য একটি সাশ্রয়ী অথচ অত্যন্ত কার্যকর বিনিয়োগ হতে পারে। শুধু যোগাযোগ নয়, এই সেতু নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ব্রহ্মপুত্র নদ শাসনের প্রশ্নও। নদ শাসন হলে চর এলাকার বিস্তীর্ণ অনাবাদি জমি চাষযোগ্য হয়ে উঠবে, নদীর উভয় পারে গড়ে উঠবে শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং কর্মসংস্থান তৈরি হবে হাজার হাজার মানুষের।
বক্তারা আরও বলেন, সেতু নির্মিত হলে গাইবান্ধায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজ স্থাপনের দাবিটিও জোরালো গণদাবিতে পরিণত হবে— কারণ উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের জন্য অপরিহার্য পূর্বশর্ত। ২০০৯ সাল থেকে চলে আসা এই আন্দোলন এখন আর কোনো একটি সংগঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গাইবান্ধা জেলার ২৫ লাখ এবং গোটা উত্তরাঞ্চলের প্রায় দুই কোটি মানুষ আজ এই সেতুর প্রত্যাশী।
সভাপতি অ্যাডভোকেট আশরাফ আলী সমাপনী বক্তব্যে সব রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শ্রমিক সংগঠনকে এই আন্দোলনে একসঙ্গে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এই দাবি কোনো দলের নয়, এই দাবি উত্তরাঞ্চলের মানুষের। আমাদের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠই পারে সরকারকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করতে।
সময়ের আলো/জোই