দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের টানাপোড়েন কাটিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার অংশ হিসেবে পূর্ণাঙ্গ ভিসা সেবা পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
শনিবার (২ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা সুবিধা উন্মুক্ত করে দিয়েছে।
অন্যদিকে ভারত সরকারও ধাপে ধাপে তাদের ভিসা কার্যক্রম আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের মধ্যে যে অবিশ্বাসের দেয়াল তৈরি হয়েছিল, এই ভিসা স্বাভাবিককরণের উদ্যোগ তাকে গুছিয়ে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ভারত সফর করেন, যেখানে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করাকে ঢাকার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরা হয়। বর্তমানে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন ছাড়াও কলকাতা, আগরতলা, মুম্বই ও চেন্নাইয়ের ভিসা কেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু করেছে।
দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা ভিসা কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি মাস থেকে পুনরায় গতি পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় ১৩ হাজার ভারতীয় নাগরিককে ব্যবসা, পর্যটন, চিকিৎসা ও পারিবারিক ভ্রমণের জন্য ভিসা প্রদান করা হয়েছে, যা দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রিয়ায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার নেতৃত্বাধীন একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে দিল্লির পক্ষ থেকে ইতিবাচক বার্তা প্রদান করে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্কে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হলেও বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের জোরালো চেষ্টা শুরু হয়। ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভিসা সেবা ব্যাহত হলেও চিকিৎসা বা পারিবারিক জরুরি প্রয়োজনে সীমিত পরিসরে এটি সব সময় চালু ছিল।
ভিসা ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে দুই দেশ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, জ্বালানি সহযোগিতা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দিতে পারবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য ভারতে উন্নত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করবে।
নয়াদিল্লি ও ঢাকা এখন কেবল ভিসা নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তা ও বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই নমনীয় অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে বলে আশা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সময়ের আলো/টিএইচ