বাংলাদেশের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তনের মহাকাব্য রচিত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি প্রচলিত শাসনব্যবস্থার স্থবিরতা ভাঙতে ‘সিস্টেম রিফর্ম’ বা কাঠামোগত সংস্কারের যে ডাক দিয়েছেন, তার সার্থক প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচিতে। এটি কেবল একটি প্রশাসনিক রুটিন নয়, বরং রাষ্ট্রকে জনগণের মুখোমুখি করার এবং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুনিশ্চিত করার একটি আধুনিক অঙ্গীকার।
এই মহাপরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে যে বিষয়টি আজ জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, তা হলো- ‘ই-হেলথ কার্ড’। দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর, দুর্নীতিগ্রস্ত ও সমন্বয়হীন স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে একটি সুসংগত ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় এনে প্রতিটি নাগরিকের জন্য আমৃত্যু স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার এই উদ্যোগটি বাংলাদেশের চিকিৎসা ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, একটি দেশের প্রকৃত সমৃদ্ধি নির্ভর করে তার নাগরিকদের স্বাস্থ্য তথ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বৈশ্বিক মানদণ্ডকেই আজ বাংলাদেশে বাস্তব রূপ দিচ্ছেন।
ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত তথ্যের বিচ্ছিন্নতা এবং চরম অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ছিল। একজন সাধারণ রোগীকে ডাক্তার দেখানোর জন্য স্তূপাকৃতি কাগজের ফাইল বহন করতে হতো, যা হারিয়ে ফেলা বা নষ্ট হওয়ার কারণে সঠিক রোগ নির্ণয় ব্যাহত হতো। সরকারি হাসপাতালের বারান্দায় রোগীর স্বজনদের আহাজারি আর দালালের দৌরাত্ম্য ছিল সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই গভীর সংকটকে একজন আধুনিক ও প্রযুক্তিমনস্ক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে চিহ্নিত করেছেন।
তিনি বিশ্বাস করেন, স্বাস্থ্যসেবা কেবল বিত্তশালীদের জন্য কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক এবং অলঙ্ঘনীয় ডিজিটাল অধিকার। এই অধিকারকে বাস্তবে রূপ দিতেই ই-হেলথ কার্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এটি মূলত একটি উন্নত চিপ ও কিউআর কোড যুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র, যা একটি সুরক্ষিত কেন্দ্রীয় ক্লাউড ডাটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত। প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘ইউনিক হেলথ আইডি’ প্রদানের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করা হচ্ছে যে, দেশের যেকোনো প্রান্তে বসে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ওই নাগরিকের জন্ম থেকে বর্তমান পর্যন্ত যাবতীয় শারীরিক রেকর্ড মুহূর্তের মধ্যে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
বিশ্বের সফল দেশগুলোর উদাহরণ বিশ্লেষণ করলে এই কার্ডের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন উত্তর ইউরোপের দেশ এস্তোনিয়া আজ বিশ্বের সবচেয়ে ডিজিটাল রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃত। তাদের ‘ই-হেলথ রেকর্ড’ ব্যবস্থার কারণে ৯৯ শতাংশ স্বাস্থ্য সেবা এখন অনলাইনেই সম্পাদিত হয় এবং নাগরিকরা তাদের সম্পূর্ণ মেডিকেল হিস্ট্রি একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে।
ঠিক একইভাবে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা এনএইচএস প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস বজায় রাখে, যার ফলে ডাক্তাররা মুহূর্তের মধ্যে রোগীর অতীত ইতিহাস জেনে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সিঙ্গাপুরের ‘ন্যাশনাল ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড’ বা এনইএইচআর ব্যবস্থা দেশটির চিকিৎসা ব্যবস্থাকে বিশ্বের অন্যতম সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেলে পরিণত করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এস্তোনিয়া, যুক্তরাজ্য এবং সিঙ্গাপুরের এই সফল মডেলগুলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সমন্বয় করেছেন, যাতে আমাদের নাগরিকরাও একই মানের বৈশ্বিক সেবা উপভোগ করতে পারেন।
জনগণের জন্য এই কার্ডের সুফল কেবল তাত্ত্বিক নয়, বরং এর প্রায়োগিক গুরুত্ব অত্যন্ত গভীর। প্রথমত, এটি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ে এক বিশাল অর্থনৈতিক স্বস্তি বয়ে আনবে। বাংলাদেশের মানুষের দারিদ্র্যের একটি প্রধান কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত এবং আকস্মিক চিকিৎসা ব্যয়। ই-হেলথ কার্ডে রোগীর পূর্বের সব প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট যেমন এক্স-রে, সিটি স্ক্যান বা রক্ত পরীক্ষার ফলাফল ডিজিটাল ফরমেটে সংরক্ষিত থাকায় একজন রোগীকে একই পরীক্ষা বারবার করতে হবে না। একবার করা ডিজিটাল রিপোর্ট একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, যা মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবারের পকেটের টাকা সাশ্রয় করবে এবং জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য খাতের খরচ অন্তত ৩০-৪০ শতাংশ কমিয়ে আনবে।
দ্বিতীয়ত, এটি চিকিৎসার গুণগত মান বৃদ্ধি করবে এবং জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। ড্রাগ অ্যালার্জি বা বিশেষ কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তথ্য স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকায় চিকিৎসকরা ভুল ওষুধ প্রয়োগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন। বিশেষ করে হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী কিডনি সমস্যার রোগীদের ক্ষেত্রে এই ডিজিটাল রেকর্ড জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করবে। এ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা বা যেকোনো জরুরি অবস্থায় যদি কোনো ব্যক্তি অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে তার সঙ্গে থাকা কার্ডটি স্ক্যান করেই চিকিৎসকরা তার রক্তের গ্রুপ, প্রধান রোগ এবং জরুরি কন্ট্রাক্ট নম্বর পেয়ে যাবেন, যা সময়ক্ষেপণ ছাড়াই দ্রুত চিকিৎসা শুরু করতে সাহায্য করবে।
নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মা ও শিশুর নিরাপত্তায় এই কার্ড এক অনন্য বিপ্লব নিয়ে আসবে। কার্ডের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় মেসেজ সিস্টেমের মাধ্যমে শিশুদের টিকাদান ও গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত চেকআপের তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে, যা সরাসরি মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার হ্রাসে ভূমিকা রাখবে। প্রথাগত কাগজের ফাইলের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়ার পাশাপাশি এই ব্যবস্থা দেশের রেফারাল সিস্টেমকে অত্যন্ত দক্ষ করে তুলবে।
উপজেলা পর্যায়ের কোনো জটিল রোগীকে যখন বিভাগীয় বা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে, তখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে রোগীর যাবতীয় তথ্য ওই হাসপাতালে আগেই পৌঁছে যাবে, ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর আগমনের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে। এই ব্যবস্থায় ওষুধ শিল্পের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রেসক্রিপশনে ওষুধের নাম ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত থাকায় ফার্মেসিগুলোতে অসাধু ব্যবসায়ীদের পক্ষে নকল বা নিম্নমানের ওষুধ বিক্রির সুযোগ থাকবে না এবং ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরসীম এবং বহুমুখী। কেন্দ্রীয় ডাটাবেস থেকে প্রাপ্ত ‘বিগ ডাটা’ বা বিশাল তথ্যের ভান্ডার বিশ্লেষণ করে সরকার বুঝতে পারবে দেশের কোন অঞ্চলে কোন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। যদি কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, তবে ডিজিটাল ম্যাপ দেখে রাষ্ট্র দ্রুত সেখানে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এটি ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে অগ্রিম সতর্কবার্তা প্রদানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের পথ প্রশস্ত করবে। সরকারি হাসপাতালে ওষুধের সরবরাহ এবং বিতরণের ডিজিটাল ট্র্যাকিং থাকার ফলে ওষুধ চুরি বা পাচার পুরোপুরি বন্ধ হবে। সর্বোপরি, এই ই-হেলথ কার্ডটি ভবিষ্যতে ‘জাতীয় স্বাস্থ্য বীমা’ চালুর প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে, যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য বৈষম্যহীন ও সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।
এই বিশাল উদ্যোগ সম্পর্কে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ মহলের মতামত বিশ্লেষণ করলে এর গভীরতা ও গ্রহণযোগ্যতা স্পষ্ট হয়। একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মতে, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল ভিত্তি হলো সঠিক তথ্য, আর ই-হেলথ কার্ড সেই তথ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে ভুল চিকিৎসার আশঙ্কা প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনবে। একজন অর্থনীতিবিদের দৃষ্টিতে, এটি চিকিৎসা করাতে গিয়ে মানুষের নিঃস্ব হওয়া রোধ করবে এবং জাতীয় বাজেটের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দীর্ঘমেয়াদে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। মানবাধিকার কর্মীদের অভিমত অনুযায়ী, এই কার্ড ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য চিকিৎসার সমান সুযোগ সৃষ্টি করে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে। অন্যদিকে, প্রবীণ সাংবাদিকদের মতে, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ প্রশাসনিক জবাবদিহিতার এক নতুন মডেল এবং এটি সরকারি সেবায় জনগণের গভীর আস্থা ফিরিয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন দর্শন হলো তারুণ্য, প্রযুক্তি এবং মেধার এক অপূর্ব সমন্বয়। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতিই একটি সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গড়তে পারে। তার নেতৃত্বে আইটি খাতকে দেশের অর্থনীতির দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ হিসেবে গড়ে তোলার যে কর্মযজ্ঞ চলছে, ই-হেলথ কার্ড তারই একটি সফল ও প্রায়োগিক রূপ। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশে হাজার হাজার তরুণ আইটি বিশেষজ্ঞের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং মেধা পাচার রোধে এটি একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশও এখন আধুনিক স্বাস্থ্যসেবার বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত হতে যাচ্ছে। ১৮০ দিনের এই নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় বিশেষ প্রশাসনিক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যারা মাঠ পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি ও কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সরাসরি তদারকি করছেন। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ তৃণমূলের সাধারণ মানুষকে এই সেবার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত করেছে।
তবে এই মহতী উদ্যোগের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও বিদ্যমান যা অস্বীকার করার উপায় নেই। নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। সরকার এর জন্য আন্তর্জাতিক মানের এনক্রিপশন ও শক্তিশালী ফায়ারওয়াল ব্যবস্থা গড়ে তুলছে যাতে নাগরিকের গোপনীয় তথ্য পাচার না হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা এই প্রকল্পের সাফল্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। প্রযুক্তিবিরোধী অপপ্রচার রোধে এবং বয়স্ক ও প্রযুক্তিজ্ঞানহীন মানুষের মধ্যে এই কার্ডের ব্যবহার জনপ্রিয় করতে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির কাজও সমান্তরালে চালিয়ে যেতে হবে। সরকার ইতিমধ্যে লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাকআপ পাওয়ার সাপ্লাই এবং অফলাইন ডেটা স্টোরেজ সুবিধার ওপর কাজ শুরু করেছে, যাতে চরম প্রতিকূল পরিবেশেও সেবা ব্যাহত না হয়।
পরিশেষে বলা যায়, তারেক রহমানের ১৮০ দিনের এই কর্মযজ্ঞ কেবল একটি প্রশাসনিক লক্ষ্যমাত্রা বা রাজনৈতিক চমক নয়, এটি একটি মর্যাদাশীল, আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশের দীর্ঘস্থায়ী স্বপ্ন। ই-হেলথ কার্ড হলো সেই স্বপ্নের এক অনন্য ডিজিটাল রূপায়ণ, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার চিকিৎসা অধিকারের পূর্ণ গ্যারান্টি পায়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার সাহসী নেতৃত্ব, দূরদর্শী চিন্তা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার যে নজির তিনি স্থাপন করেছেন, তা দেশকে বিশ্বের দরবারে একটি আধুনিক কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই কালান্তরের দিকে ফিরে তাকাবে, তখন তারা দেখবে যে এক কঠিন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে এক দূরদর্শী নেতা প্রযুক্তির হাত ধরে একটি ভগ্ন স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে কীভাবে পুনর্গঠন করে জাতির জন্য সুস্থতার রক্ষাকবচ তৈরি করেছিলেন। সাধারণ মানুষের দোয়া ও সরকারের অদম্য সদিচ্ছায় এই ই-হেলথ কার্ড হবে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘায়ু, শান্তি ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। এটি কেবল একটি স্বাস্থ্য প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি আত্মনির্ভরশীল, স্মার্ট ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশের অবিনাশী প্রতীক।
লেখক : সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী, চট্টগ্রাম
সময়ের আলো/আআ