দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিকসহ অন্যান্য সহযোগিতার জন্য সার্ক গঠন করা হয়। শুধু তাই নয়, এই সার্ক গঠনের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের আশা-আকাক্সক্ষা নিয়ে সার্ক গঠনের চিন্তাভাবনা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সার্ক এখন স্থবির হয়ে রয়েছে। কেন রয়েছে তার অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বৈরিতা।
গত শুক্রবার সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার মূল শিরোনাম হচ্ছে, সার্ক সচলে তৎপর বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত এক যুগ ধরে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না তা কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও বাংলাদেশ সার্ককে পুনরুজ্জীবনের উদ্যোগ নিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা খুব জটিল ও কঠিন।
সার্ককে উজ্জীবিত করতে হলে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো একান্ত প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার যে উদ্যোগ নিচ্ছে তা অবশ্যই প্রশংসাযোগ্য। বিএনপি দীর্ঘদিন পর সরকার গঠন করেছে। আর বিএনপি সরকারের হাতেই এই সার্ক গঠিত হয়। বিএনপি সরকার তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে সার্ক পুনরুজ্জীবনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। কারণ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সমস্যাগুলো যদি অনায়াসে মীমাংসা করা যায় তা হলে তো দেশের জন্য মঙ্গলজনক। শুধু বাংলাদেশ যে লাভবান হবে তা নয়, প্রতিটি দেশই নিজ নিজ ক্ষেত্রে উপকৃত হবে।
আশার কথা সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারত সফরে গিয়েছিলেন। সফরে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়াও সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে আলাপ করেছেন বলে প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ২০০ কোটি মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করার জন্য সার্ক অবশ্য একটি অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। শুধু তাই নয়, সার্কভুক্ত দেশগুলোতে শান্তি ও সমৃদ্ধির সুবাতাস বইবে। প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের তথ্য উদ্ধৃত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বার্ষিক ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য হওয়া সম্ভব। যেখানে বর্তমানে এই সংস্থাটির আঞ্চলিক বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ২৩ বিলিয়ন ডলার।
শুধু কি বাণিজ্য? সার্কের সনদ অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের কল্যাণ ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হওয়ার কথা। বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক অগ্রগতি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই ছিল এই সার্কের প্রধান উদ্দেশ্য। এ ছাড়া পারস্পরিক আস্থা ও প্রযুক্তিগত সক্রিয় সহযোগিতা করা ছিল সার্ক সনদের আওতাভুক্ত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। সার্কের বর্তমান চেয়ারম্যান নেপাল। তবে ২০১৬ সালে পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। কেন হয়নি তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উচ্চ কূটনৈতিক উত্তেজনা ও সীমান্ত সন্ত্রাসবাদজনিত পরিস্থিতির কারণে তা স্থগিত হয়ে যায়। শীর্ষ সম্মেলন সরকারপ্রধানদের নিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে বিভিন্ন ধরনের স্ট্যান্ডিং কমিটি রয়েছে। মাঝেমধ্যে এই কমিটিগুলোর বৈঠক হলেও কার্যকর তেমন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তবে আরও একটি আশার কথা সম্প্রতি ঢাকায় সার্কের কৃষিবিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সাকর্কে শক্তিশালী করার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। কাজেই সার্কের পুনরুজ্জীবনে বাংলাদেশের উদ্যোগ সফল হোক।
সময়ের আলো/আআ