জার্মানিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার সংখ্যা পেন্টাগনের আগের ঘোষণার চেয়েও অনেক বেশি কমিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার (৩ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির হার ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনা হবে এবং এই সংখ্যাটি আগের প্রস্তাবিত ৫ হাজার সেনার চেয়েও অনেক বেশি হবে।
যদিও ঠিক কত সংখ্যক সেনা প্রত্যাহার করা হবে, সে বিষয়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রদান করেননি। ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষা ও ন্যাটোর মধ্যকার পারস্পরিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ন্যাটোর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক পদক্ষেপ সম্পর্কে তারা আরও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল যখন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মার্জ ইরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা নিয়ে একটি বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন।
চ্যান্সেলর মার্জ বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প প্রশাসন ‘লজ্জিত’ হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মান চ্যান্সেলরের এই মন্তব্যের পরই ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প দেশটিতে মোতায়েন করা মার্কিন সেনার সংখ্যা আরও কমিয়ে আনার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানি তাদের প্রতিরক্ষা বাজেটে ন্যাটোর নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী খরচ করছে না বলে অভিযোগ করে আসছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বারবার দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের সুরক্ষায় বিপুল অর্থ ব্যয় করলেও জার্মানি তার যথাযথ অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করছে না।
এর আগে পেন্টাগন থেকে প্রায় ১২ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যার একটি বড় অংশ অন্য দেশে স্থানান্তর বা যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। তবে ট্রাম্পের নতুন এই ঘোষণা অনুযায়ী, সেনার সংখ্যা কমানোর হার আগের সব পরিকল্পনাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও রাশিয়ার প্রভাব মোকাবিলায় ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ। জার্মানি বর্তমানে ইউরোপে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
এখান থেকে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করা হয়। ওয়াশিংটন ও বার্লিনের মধ্যে বাড়তে থাকা এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রশ্নে দুই দেশের ভিন্ন অবস্থান এখন সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: টাইমস অফ ইসরায়েল