সীমান্তজুড়ে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বাড়তে থাকায় এবার আরও আক্রমণাত্মক নিরাপত্তা কৌশলে গেল জর্ডান। প্রতিবেশী সিরিয়ার ভেতরে সন্দেহভাজন চোরাচালান ঘাঁটি লক্ষ্য করে ভোরের আলো ফুটতেই বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির বিমানবাহিনী। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি কোনো আকস্মিক পদক্ষেপ নয়; বরং সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিকল্পিত অভিযান।
জর্ডানের সামরিক সূত্র জানায়, সীমান্তসংলগ্ন সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে এমন কিছু স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছিল, যেগুলো মাদক ও অস্ত্র পাচারের ‘লঞ্চপ্যাড’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এসব জায়গা থেকেই সংগঠিতভাবে চোরাচালান চালিয়ে জর্ডানে প্রবেশের চেষ্টা হচ্ছিল। নির্ভুল লক্ষ্যভেদী হামলার মাধ্যমে সেই অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।
আরও পড়ুন
আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে চোরাচালানচক্রের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। বিশেষ করে সিরিয়ার অস্থিতিশীল দক্ষিণাঞ্চলকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন গোষ্ঠী মাদক ব্যবসা বিস্তার করছে, যা জর্ডানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে। ফলে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান ছেড়ে ‘প্রি-এম্পটিভ স্ট্রাইক’-এর পথেই হাঁটছে আম্মান।
অন্যদিকে সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, সুয়াইদা প্রদেশের শাহবা এলাকার একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, হামলার পর এলাকায় ড্রোন নজরদারি ও জরুরি সেবার তৎপরতা বেড়ে যায়, যা ঘটনাটির গুরুত্ব নির্দেশ করে।
এই হামলার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের শাসন শেষে বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আহমাদ আল-শারার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা চালালেও সীমান্ত অঞ্চলে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এখনো চ্যালেঞ্জ।
এএডি/