বাগেরহাটের রামপালে একটি মৎস্যঘেরের মালিকানা ও মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত থেকে রবিবার (৩ মে) দুপুর পর্যন্ত উপজেলার ভাগা বাজার এলাকায় এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, একটি বিরোধপূর্ণ মৎস্যঘেরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে দুই জনকে আটকে ভাগা বাজার এলাকায় অবস্থিত স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে রাখা হয়। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা পৌঁছানোর আগেই একদল বহিরাগত এসে আটকে রাখা ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষে এক পক্ষের আকবর হোসেন আকো (৫৫), মাসুদ শেখ (৩৮), খোকন শেখ (৩৬), কামরুল শেখ (৪০), শামীম শেখ (৩২), জাহিদ শেখ (৩৫), হানিফ শেখ (৪০) ও সেকেন শেখ (৪৫) আহত হন। এদের মধ্যে মাসুদ ও খোকনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
অপর পক্ষের আহতরা হলেন, আব্বাস শেখ (৪৫), কামাল হোসেন (৩০), সোহাগ শেখ (২০), সাগর শেখ (২০), রাজু শেখ (৪৫), ওসমান শেখ (৪১) ও ইসলাম শেখ (৩০)।
দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, কাঁকড়ার ডিপো, বিকাশের দোকান ও ওষুধের দোকান লুটপাটের অভিযোগ এনেছে। তবে দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও নেতাদের ছবি ছিঁড়ে ফেলার বিষয়টি কোনো কোনো পক্ষ অস্বীকার করেছে।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব কাজী জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার বাড়ির সামনে গিয়ে প্রতিপক্ষরা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছে।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি জানান, এটি মূলত মৎস্যঘের সংক্রান্ত ব্যক্তিগত বিরোধ, কোনো রাজনৈতিক কোন্দল নয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করা হয়েছে।
রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি অবস্থানকালীন কোনো অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। তবে মারপিট ও লুটপাটের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি।
সময়ের আলো/জোই