পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার আগের রাতে স্ট্রংরুমে সংরক্ষিত জনগণের ভোট এবং ইভিএম পাহারা দিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
রোববার (৩ মে) দিবাগত রাত প্রায় পৌনে দুইটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই নির্দেশ দেন। আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূল নেত্রী গণনাকেন্দ্রগুলোতে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে দলীয় কর্মীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘সতর্ক থাকুন, পাহারা দিন, রাত জাগুন, অভিযোগ করুন’ শীর্ষক ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, বিভিন্ন গণনাকেন্দ্র ও স্ট্রংরুম এলাকায় পরিকল্পিতভাবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা লোডশেডিং করা হচ্ছে।
তিনি সুনির্দিষ্টভাবে হুগলির শ্রীরামপুর, নদীয়ার কৃষ্ণনগর, বর্ধমানের আউশগ্রাম এবং কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে দফায় দফায় লোডশেডিংয়ের মাধ্যমে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এমনকি সেই অন্ধকারের সুযোগে স্ট্রংরুমের আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে গাড়ি চলাচল করছে বলেও তিনি অভিযোগ তোলেন।
দলের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে মমতা লিখেছেন, তিনি নিজে যেভাবে রাত জেগে সবকিছুর ওপর কড়া নজর রাখছেন, কর্মীরা যেন একইভাবে স্ট্রংরুম পাহারা দেন। কোথাও কোনো অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে তাৎক্ষণিক অভিযোগ জানাতে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ‘অঙ্গুলিহেলনে’ পরিচালিত একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
ভোট গণনার ঠিক আগ মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রীর এমন ফেসবুক পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের আশঙ্কা, গণনাকেন্দ্রে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে ফলাফলে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা হতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনগণের রায় রক্ষা করতে তৃণমূল কর্মীরা রাতভর গণনাকেন্দ্রগুলোর বাইরে অবস্থান নিচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন এবং স্থানীয় প্রশাসন অবশ্য নিরাপত্তার বিষয়ে শতভাগ নিশ্চয়তা দিলেও শাসক দলের এই অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা।
সূত্র: আনন্দবাজার
সময়ের আলো/টিএইচ