ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে যোগসাজশ এবং মাশহাদ শহরে সহিংসতা উসকে দেওয়ার অভিযোগে তিন ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। সোমবার (৪ মে) দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিরা হলেন মেহেদি রাসুলি, মোহাম্মদরেজা মিরি এবং ইব্রাহিম দৌলতাবাদ। তাদের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারি মাসে ইরানে চলা বিক্ষোভের সময় মাশহাদ শহরে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছিল।
ফারস নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্যকে হত্যা, সরকারি ও বেসরকারি সম্পদ ধ্বংস এবং জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী কাজ করার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় তদন্তে উঠে এসেছে, আসামিরা বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন এবং দেশের ভেতর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করেছিলেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, ইব্রাহিম দৌলতাবাদ বিক্ষোভ চলাকালীন একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে পরিচালিত ওই সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে এবং জননিরাপত্তা চরম বিঘ্নিত হয়।
এছাড়া তারা একটি ব্যাংক এবং ইরানের আধাসামরিক বাহিনী বাসিজ-এর একটি ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে তারা বিদেশি অর্থের বিনিময়ে এই অপতৎপরতা চালিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।
ইরানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। মাশহাদ শহরে চালানো ওই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পর থেকেই এই তিন ব্যক্তি গোয়েন্দা নজরদারিতে ছিলেন।
দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই