চট্টগ্রামের দক্ষিণ জনপদের গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল উপজেলা সাতকানিয়ার অধিকাংশ বিপণিবিতান, বহুতল ভবন ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই। আন্তর্জাতিক অগ্নিনির্বাপক দিবসকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর সচেতনতার বুলি আওড়ানো হলেও বাস্তবে এখানকার চিত্র চরম উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের ভাষায়, দুর্ঘটনার কবলে পড়লে ‘আল্লাহ ভরসা’ ছাড়া আর কোনো গতি নেই।
সাতকানিয়ার বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত কেরানীহাট বাজার। প্রতিদিন হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত এই বাজারের অধিকাংশ দোকানে একটি সাধারণ ‘ফায়ার এক্সটিংগুইশার’ বা অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাজারের ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের এখানে কেউ কখনো এসে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র রাখার কথা বলেনি। আগুন লাগলে কী করতে হবে, সেই প্রশিক্ষণও আমাদের নেই। কেরানীহাট ছাড়াও বাজালিয়া, এওচিয়া, কালিয়াইশ ও ছদাহার বাজারগুলোতেও একই দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে।
উপজেলার নতুন বহুতল ভবনগুলোতে ফায়ার এক্সিট বা জরুরি নির্গমন সিঁড়ি, অ্যালার্ম সিস্টেম কিংবা স্প্রিংকলার ব্যবস্থার কোনো বালাই নেই। বিশেষ করে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। রোগী ও স্বজনদের ভিড়ে ঠাসা এসব প্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ড ঘটলে নিরাপদে বের হওয়ার কোনো পথ নেই। জনৈক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, অধিকাংশ ক্লিনিকেই কোনো দিন অগ্নি মহড়া (ফায়ার ড্রিল) অনুষ্ঠিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অপরিকল্পিত তারের জট ও নিম্নমানের ক্যাবল ব্যবহারের কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, বৈদ্যুতিক ত্রুটিই অধিকাংশ আগুনের মূল কারণ। এদিকে, উপজেলার স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতেও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষিত। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে হাতেগোনা দু-একটি যন্ত্র থাকলেও সেগুলোর বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ।
সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা ফিরোজ জানান, তারা নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম চালালেও সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা একে গুরুত্ব দিতে চান না। অগ্নিকাণ্ড ঘটলে সবাই আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, কিন্তু ব্যক্তিগত প্রস্তুতি রাখা কেউ প্রয়োজন মনে করে না।
এ বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নিয়ম না মানলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রয়োজনে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।
/কহু