মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) রাতে চালানো এই হামলায় আমিরাতের ফুজাইরা তেল শিল্প এলাকার একটি স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়েছে।
আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ১৫টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং চারটি ড্রোন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। তবে ফুজাইরা মিডিয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আকাশেই একটি ড্রোন ধ্বংস করার পর এর ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়লে ফুজাইরা পেট্রোলিয়াম শিল্প এলাকায় ‘বড় আগুন’ লেগে যায়। এই আক্রমণকে ‘বিশ্বাসঘাতকতামূলক’ আখ্যা দিয়ে আমিরাত পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশজুড়ে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের আক্রমণ মোকাবিলা করছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন মিশন আমেরিকান নাগরিকদের জন্য ‘আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির’ সতর্কতা জারি করেছে। মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে জরুরি নয় এমন কর্মীদের ইতিমধ্যে আমিরাতের বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের ভ্রমণের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরান এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ইরানের এই হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই আক্রমণকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ আরব আমিরাতের ভূখণ্ড রক্ষায় পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিও এই বিপদে আমিরাতের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর পাশাপাশি প্রতিবেশী সৌদি আরব এবং কাতারও এই হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি টেলিফোনে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলে সংহতি প্রকাশ করেছেন।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। বিশেষ করে ফুজাইরা ও জেবেল আলীর মতো বাণিজ্যিক বন্দর ও তেল স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট মাখোঁ এই অস্থিতিশীলতার জন্য ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো সম্ভাব্য আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
সময়ের আলো/টিএইচ