রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার গুলিতে এআরও গ্রুপের প্রধান নিহত

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া

সারাদেশ

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের নাম হিসেবে পরিচিত কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম আরসা সন্ত্রাসীদের গুলাগুলিতে নিহত হয়েছেন।আধিপত্য বিস্তারকে

2026-05-05T22:26:52+00:00
2026-05-05T22:30:36+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আরসার গুলিতে এআরও গ্রুপের প্রধান নিহত
কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম  আপডেট: ০৫.০৫.২০২৬ ১০:৩০ পিএম
কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম। ছবি : সময়ের আলো
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের নাম হিসেবে পরিচিত কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম আরসা সন্ত্রাসীদের গুলাগুলিতে নিহত হয়েছেন।আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান। পরে তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।এসময় আহত হয়েছেন তোফায়েল আহম্মেদ এর ছেলে মোহাম্মদ উল্লাহ (৩৭) জি-ব্লকের নুর মোহাম্মদ। 

মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যা ৭ টার দিকে ক্যাম্প-৮/ইস্ট এর এ/৩২ পয়েন্ট এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্প-০৭ এর মধ্যবর্তী তরজার ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

স্থানীয় সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপগুলোর মধ্যে চলমান বিরোধ থেকেই এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। 

কেফায়েত উল্লাহ ওরফে হালিম দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একটি প্রভাবশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। অনুসন্ধানী তথ্যমতে, তার অপরাধ জগতের সূচনা মিয়ানমারে, যেখানে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-এর শীর্ষ পর্যায়ের কমান্ডার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তীতে কৌশলগত কারণে ‘হালিম’ নাম ধারণ করে আত্মগোপনে গিয়ে উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন।

তার নেতৃত্বাধীন ‘হালিম গ্রুপ’ পরে আরসা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গঠিত আরাকান রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন (এআরও)-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ শুরু করে। 


অভিযোগ রয়েছে, এই গ্রুপ মিয়ানমার সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক পাচার, অস্ত্র চোরাচালান এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করত। ইয়াবা পাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়েই তারা অস্ত্র সংগ্রহ ও নতুন সদস্য নিয়োগ দিত।

হালিম গ্রুপের বিরুদ্ধে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। ক্যাম্পে প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে একাধিক সহিংস ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অস্ত্র এনে ক্যাম্পে মজুদ ও বিতরণের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উঠে এসেছে।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তার আটক ও পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে মুক্তি পাওয়ার অভিযোগ, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ক্যাম্পবাসীর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। 

তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ক্যাম্পে একটি বড় সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বের অবসান হলেও, বিশ্লেষকদের মতে এতে সহিংসতা পুরোপুরি কমবে– এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং ক্ষমতার শূন্যতা নতুন করে সংঘর্ষের জন্ম দিতে পারে। 

ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে থাকা ১৪ এপিবিএন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও রাত সাড়ে ৯ টার দিকে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে নিহত ও আহতদের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

অজ্ঞাতনামা আরসা সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প এলাকায় পুলিশি কার্যক্রম ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। 


/ইউএমএইচ



Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: