কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জোরদার এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ।
মঙ্গলবার (৫ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে কিউবাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলেন।
রদ্রিগেজ বলেন, ওয়াশিংটন একদিকে কিউবাকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত করছে, অন্যদিকে দেশটিকে ‘মুক্ত করার’ অজুহাতে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিচ্ছে। তিনি এই আচরণকে ‘নৃশংস ও ভণ্ডামি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, গত দুই মাসে দুটি বিশেষ নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবার ওপর গণহত্যামূলক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
রদ্রিগেজের মতে, কিউবার ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক ও জ্বালানি অবরোধ এবং নতুন করে দেওয়া সামরিক হামলার হুমকি সরাসরি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, অর্থনৈতিক অবরোধ এবং জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া মূলত আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল।
কিউবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন, যেখানে রুবিও দাবি করেছিলেন যে কিউবার ওপর কোনো তেল অবরোধ আরোপ করা হয়নি। রদ্রিগেজ এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেন এবং জানান যে মার্কো রুবিও স্বয়ং তার প্রেসিডেন্টের দেওয়া আদেশের বিপরীতে কথা বলছেন।
বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত চার মাসে কিউবায় মাত্র একটি তেলের ট্যাঙ্কার পৌঁছাতে পেরেছে। ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত তেল নিষেধাজ্ঞার পর থেকে কিউবায় জ্বালানি সংকট ও ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে।
রদ্রিগেজ অভিযোগ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সই করা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবাকে তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে সরবরাহকারীরা কিউবায় তেল পাঠাতে ভয় পাচ্ছে। এটি আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্য এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ১ মে কার্যকর হওয়া নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের পর এবার কিউবার পালা এবং খুব শীঘ্রই এই ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্রটির পতন ঘটবে। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তেল অবরোধের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, কোনো নির্দিষ্ট দেশের ওপর তেল বিক্রিতে সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি, কেবল নির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাবে বলেন, রুবিও খুব ভালো করেই জানেন তাঁর প্রস্তাবিত এই ‘ক্রিমিনাল অয়েল সিজ’ বা অপরাধমূলক জ্বালানি অবরোধ কিউবার সাধারণ মানুষের জীবনে কতটা দুর্ভোগ ও হাহাকার বয়ে নিয়ে আসছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
সময়ের আলো/টিএইচ