৬৬ বছর বয়সী রোকেয়া বেগম, হাঁটতে পারেন না। বাস করছেন নাটোরের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পৌর শহরের প্রফেসর পাড়ার স্থানীয় কবরস্থানের পাশে খোলা আকাশের নীচে। এক সময় স্বামী-সন্তান ও সংসার থাকলেও এখন তার পাশে কেউ নেই। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়েই কোনোরকমে খেয়ে দিন পার করছেন তিনি। তার এই অসহায় জীবনচিত্র স্থানীয় সাংবাদিকরা প্রচার করলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
বুধবার (৬ মে) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ও উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা সরেজমিনে রোকেয়া বেগমকে দেখতে যান।
এ সময় রোকেয়া তার জীবনের ঘটনা খুলে বলেন। মনোযোগ দিয়ে শোনেন ইউএনও এবং তাৎক্ষণিক একটি হুইল চেয়ার ও নগদ অর্থ এবং খাদ্য সহায়তা প্রদান করেন তিনি। থাকার জায়গা হিসেবে খাস জমি খুঁজে একটি থাকার মতো ঘর প্রদানের প্রতিশ্রুতিও দেন ইউএনও।
রোকেয়া বেগম জানান, তার স্বামী আব্দুর রউফের তৃতীয় স্ত্রী ছিলেন তিনি। উপজেলার বনপাড়া কালিকাপুর মহল্লায় স্বামীর বাড়িতেই ভালোই ছিলো। ১১ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। স্বামীর মৃত্যুর তিনি জানতে পারে তার নামে কোনো জায়গা-জমি নেই। এদিকে একমাত্র পুত্র সন্তান বিয়ে করে শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছে। এরপর বিভিন্ন বাসা-বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন রোকেয়া বেগম।
কিন্তু আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি কর্মক্ষম হয়ে পড়ে। গত ৬ বছর যাবৎ তিনি লাঠি ভর করে কোনো রকম চলাচল করে ভিক্ষা করে জীবন যাপন করে আসছে। তবে এখন আরও বেশী অসুস্থ ও হাঁটতে-চলতে না পারায় তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে। মৃত্যু খুব কাছাকাছি বুঝতে পেরে বনপাড়া পৌর শহরের প্রফেসরপাড়ার স্থানীয় কবরস্থানের পাশে খোলা আকাশের নীচে অবস্থান নেন তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, অসহায় ওই নারীর জন্য থাকার জন্য একটি ঘর ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আআ