বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের ব্যবহার প্রায় সর্বজনীন। শহর থেকে গ্রাম, প্রায় প্রতিটি পরিবারেই রান্না, খাদ্য প্রস্তুত এবং দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভোজ্য তেল একটি অপরিহার্য উপাদান। ভোজ্য তেল শুধু শক্তির উৎস নয়, এটি মানবদেহে প্রয়োজনীয় চর্বি-দ্রবণীয় ভিটামিন শোষণে সহায়তা করে এবং খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সে কারণে ভোজ্য তেলের নিরাপত্তা, গুণগত মান এবং পুষ্টিমান নিশ্চিত করা জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সারা দেশে এখনও অস্বাস্থ্যকর ড্রামে খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
দোকানপাটে আমরা প্রায়ই নীল বা বিভিন্ন রঙের বড় প্লাস্টিক ড্রামে খোলা তেল বিক্রি হতে দেখি। সাধারণ ভোক্তারা তুলনামূলক কম দামের কারণে এসব তেল কিনলেও অনেকে জানেন না, এসব ড্রামের বড় অংশই মূলত রাসায়নিক দ্রব্য, লুব্রিকেন্ট, মবিল, শিল্প-কারখানার উপকরণ কিংবা অন্যান্য পণ্য সংরক্ষণ ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। পরে সেগুলো অপর্যাপ্তভাবে পরিষ্কার করে ভোজ্য তেল পরিবহন ও সংরক্ষণে ব্যবহার করা হয়। ফলে ড্রামের গায়ে লেগে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তেলের সঙ্গে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। নন-ফুড গ্রেডেড প্লাস্টিক ড্রাম বারবার ব্যবহারের ফলে তেলের গুণগত মান নষ্ট হওয়া, দূষিত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে বিষাক্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কাও থাকে।
খোলা ড্রামের তেলের আরেকটি বড় সমস্যা হলো ভেজালের ঝুঁকি। তেল খোলা অবস্থায় থাকায় সরবরাহ শৃঙ্খলের যেকোনো পর্যায়ে এতে নিম্নমানের তেল, ব্যবহৃত তেল কিংবা অন্য কোনো উপাদান মেশানো সম্ভব। ভোক্তার পক্ষে তা শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব। এতে শুধু অর্থনৈতিক প্রতারণাই হয় না, বরং মানুষের স্বাস্থ্যও হুমকির মুখে পড়ে। বর্তমানে দেশে হৃদরোগ, কিডনি রোগ, লিভার জটিলতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগ বাড়ছে। নিম্নমানের, দূষিত ও ভেজাল তেল এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ড্রামে বিক্রীত খোলা ভোজ্য তেল আরেকটি কারণে উদ্বেগজনক। এটি ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নের পথে বড় বাধা। বাংলাদেশে ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই জনস্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। ভিটামিন ‘এ’ এর অভাবে রাতকানা রোগ, চোখের শুষ্কতা, কর্নিয়ার ক্ষতি, শুষ্ক চামড়া, সংক্রমণ প্রবণতা বৃদ্ধি, শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, নারীদের বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণে সমস্যা, অপরিণত শিশুর জন্মদানের মতো সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতা মানবদেহে পুষ্টির ঘাটতি ঘটায় এবং এর ফলে বিভিন্ন ধরনের সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
এ কারণে সরকার ২০১৩ সালে আইন এবং ২০১৫ সালে বিধিমালা প্রণয়ন করে সব ভোজ্য তেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক করেছে।
আইন অনুযায়ী সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, পাম অলীন এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অন্য যেকোনো উদ্ভিজ্জ ভোজ্য তেলে নির্ধারিত মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ থাকতে হবে। ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ মাত্রা হবে ১৫ থেকে ৩০ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) অর্থাৎ প্রতি গ্রাম ভোজ্য তেলে অন্যূন ০.০১৫ মিলিগ্রাম থেকে অনধিক ০.০৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন ‘এ’ থাকতে হবে। সমৃদ্ধকরণ প্রতীক ছাড়া এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পাত্রে ভোজ্য তেল বাজারজাত করা যাবে না। ভোজ্য তেল খাদ্যপণ্য বিধায় এটি নিরাপদভাবে প্যাকেজিং, মোড়কাবদ্ধ ও লেবেলিং করে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে হবে।
এ জন্য ভোজ্য তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩’, ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনিস্টিটিউশন আইন, ২০১৮’, ‘ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮’সহ প্যাকেজিং, মোড়কাবদ্ধ ও লেবেলিং সংক্রান্ত বিধি ও প্রবিধানমালা অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো ধরনের অস্বাস্থ্যকর, নোংরা এবং নন-ফুড গ্রেডেড পাত্রে ভোজ্য তেল বাজারজাত, সরবরাহ ও বিক্রয় করা যাবে না। কাজেই এসব বাধ্যবাধকতা প্রতিপালন না করা বা অমান্য করা বা লঙ্ঘন করা আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। কিন্তু খোলা ড্রামে বিক্রি হওয়া তেলের ক্ষেত্রে এসব শর্তের অধিকাংশই মানা হয় না। ফলে আইন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তার সুফল পুরোপুরি মিলছে না।
আইসিডিডিআরবি পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজারে প্রাপ্ত খোলা ভোজ্য তেলের ৫৯ শতাংশ নমুনায় ভিটামিন ‘এ’ পাওয়া যায়নি। এক-তৃতীয়াংশ নমুনায় পরিমিত মাত্রার চেয়ে কম ভিটামিন ‘এ’ ছিল। মাত্র ৭ শতাংশ নমুনা সরকার নির্ধারিত ন্যূনতম মানদণ্ড পূরণ করেছে। এ পরিসংখ্যান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অর্থাৎ ভোক্তারা যে তেল কিনছেন, তা শুধু অনিরাপদই নয়, প্রত্যাশিত পুষ্টিমান থেকেও বঞ্চিত।
মানবদেহে ভিটামিন ‘এ’ এর স্বল্পতা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গবেষক ও জনস্বাস্থ্যবিদদের কাছে একটি নীরব মহামারি আকারে ধরা পড়ছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে এই প্রকোপ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বাংলাদেশও ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যার প্রকোপ থেকে মুক্ত নয়।
জাতীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট জরিপ ২০১৯-২০ অনুযায়ী দেশে ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ৫০.৯ শতাংশ এবং ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সি নারীদের ৭.৫ শতাংশ ভিটামিন ‘এ’ ঘাটতিতে ভুগছেন।
জার্নাল অব হেলথ, পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে ভারতে ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতার হার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৬২ শতাংশ প্রাক-স্কুল শিশু ভিটামিন ‘এ’-এর অভাবে ভুগছে এবং এর ফলে বছরে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার শিশু মৃত্যুবরণ করে।
পাকিস্তান এবং শ্রীলঙ্কায়ও এই সমস্যা প্রকট। সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এসব দেশ সরকারিভাবে খাদ্যদ্রব্যে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ প্রকল্প গ্রহণের দিকে ঝুঁকছে। ভারতে ২০১৮ সালে ‘ফুড ফর্টিফিকেশন রিসোর্স সেন্টার’ স্থাপনের মাধ্যমে (ভোজ্য তেলসহ) ৫টি প্রধান খাদ্যদ্রব্যে ভিটামিন ‘এ’ এবং ‘ডি’ সমৃদ্ধকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী মোট ৪৩টি দেশে ভোজ্য তেল সমৃদ্ধ করা হয়, ৩৫টি দেশে বাধ্যতামূলক এবং ৮টি দেশে স্বেচ্ছামূলক। দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি দেশে (আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান) ভোজ্য তেল সমৃদ্ধকরণ বাধ্যতামূলক। সুতরাং বাংলাদেশে বিশেষ করে ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ পদক্ষেপের যথাযথ বাস্তবায়ন নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’ স্বল্পতাজনিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা মোকবিলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
এই বাস্তবতায় ভোজ্য তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ ভোজ্য তেল এমন একটি খাদ্যপণ্য যা প্রায় সব পরিবারেই ব্যবহৃত হয়। তাই এটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে অণুপুষ্টি পৌঁছে দেওয়ার একটি কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী মাধ্যম। উন্নয়নশীল বহু দেশে খাদ্য ফর্টিফিকেশন এখন জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের পরীক্ষিত কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সরকার অস্বাস্থ্যকর ড্রামে খোলা ভোজ্য তেল বাজারজাত বন্ধে একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ২০২১ সালে অংশীজনদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করে ড্রামের পরিবর্তে ফুড গ্রেড বোতল, প্লাস্টিক ফয়েল বা পাউচ প্যাকে তেল বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সভাগুলোতে গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয় কর্তৃক এক নির্বাহী আদেশে ২০২২ সালের ১৬ মার্চের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর নন-ফুড গ্রেডেড ড্রামে ভোজ্য তেল বাজারজাত ও পরিবহন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের কথা বলা হয়।
তবে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং রিফাইনারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতির ঘাটতি বিবেচনায় শিল্প মন্ত্রণালয় এই সময়সীমা বৃদ্ধি করে। পরে ২০২২ সালের নির্দেশনায় খোলা সয়াবিন তেল বাজারজাতকরণের সময়সীমা ৩১ জুলাই ২০২২ এবং খোলা পাম অয়েল বাজারজাতকরণের সময়সীমা ২০২২ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এই সময়সীমার পর শতভাগ ভোজ্য তেল ফুডগ্রেড বোতল বা প্লাস্টিক ফয়েল অথবা পাউচ প্যাকে বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে বলা হয়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে সেই সিদ্ধান্তের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও দৃশ্যমান নয়। মাঝেমধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও কয়েক দিন পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় বাজার।
খোলা তেলের আরেকটি সমস্যা হলো উৎস শনাক্তকরণের অভাব। রিফাইনারি কোম্পানি বা সরবরাহকারীরা পুরোনো ড্রামে অনেক সময় কোনো লেবেল, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণতার তথ্য কিংবা ব্র্যান্ড পরিচিতি সংযুক্ত করে না। ফলে কোনো অনিয়ম, ভেজাল, নিম্নমান বা স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিলে দায়ী প্রতিষ্ঠানকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাজারে জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্যাকেটজাত, লেবেলযুক্ত ও ট্রেসযোগ্য সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি।
এ অবস্থায় কঠোর, সমন্বিত ও টেকসই পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। প্রথমত অস্বাস্থ্যকর ড্রামে খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত সব ভোজ্য তেল বাধ্যতামূলকভাবে ফুড গ্রেড বোতল, পাউচ, পলিপ্যাক বা অনুমোদিত নিরাপদ পাত্রে বাজারজাত নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত তেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ হচ্ছে কি না তা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা, নজরদারি ও মূল্যায়ন করতে হবে। চতুর্থত ভোক্তাদের মধ্যে খোলা তেলের স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং প্যাকেটজাত তেলের সুবিধা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে সরকার, জনস্বাস্থ্যবিদ, সুশীলসমাজ, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম, উন্নয়ন সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কাজ করতে হবে। পঞ্চমত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর, বিএসটিআই, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে হবে। ষষ্ঠত নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও ধারাবাহিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শুধু মুনাফার কথা ভাবলে চলবে না; জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পণ্যের মান নিশ্চিত করা তাদের নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। প্রয়োজনে সরকার রূপান্তর প্রক্রিয়ায় নীতিগত সহায়তা, প্রযুক্তিগত পরামর্শ বা সীমিত প্রণোদনা দিতে পারে। তবে আইনের ব্যত্যয় হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা বজায় রাখতেও সবার জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও সুরক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাও টেকসই উন্নয়ন অভীষ্টের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই অস্বাস্থ্যকর ড্রামে খোলা ভোজ্য তেল বিক্রি বন্ধ করা শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয় নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, পুষ্টি নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্যের প্রশ্ন। নিম্ন আয়ের মানুষরাই খোলা তেলের প্রধান ক্রেতা। তাদের জন্য ভিটামিনবিহীন, দূষিত ও অনিরাপদ তেল কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না; বরং অসুস্থতা বাড়াবে এবং চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা চাপাবে।
সুস্থ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জাতি গঠনে এখনই সময় অস্বাস্থ্যকর ড্রামে ভোজ্য তেল বিক্রয় স্থায়ীভাবে বন্ধ করার। সংশ্লিষ্টরা বিলম্ব না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন এটাই সবার প্রত্যাশা।
সময়ের আলো/জেডি