জেফরি এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের কথিত একটি ‘সুইসাইড নোট’ দীর্ঘ সাত বছর আড়ালে থাকার পর বুধবার (৬ মে) জনসমক্ষে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের

2026-05-07T12:58:00+00:00
2026-05-07T12:58:00+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
জেফরি এপস্টিনের কথিত ‘সুইসাইড নোট’ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম 
জেফরি এপস্টিন।
যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিনের কথিত একটি ‘সুইসাইড নোট’ দীর্ঘ সাত বছর আড়ালে থাকার পর বুধবার (৬ মে) জনসমক্ষে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। মামলার নথিতে যুক্ত হওয়া এই চিরকুটটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও এতে এপস্টিনের শেষ মুহূর্তের কিছু নাটকীয় স্বীকারোক্তি রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। 

স্বাক্ষরবিহীন ওই চিরকুটে লেখা ছিল, কর্তৃপক্ষ কয়েক মাস ধরে তদন্ত করেও তার বিরুদ্ধে কিছুই খুঁজে পায়নি। চিরকুটের অপর অংশে লেখা ছিল, বিদায় বলার জন্য নিজের সময় নিজে বেছে নিতে পারাটা ভাগ্যের বিষয়। মূলত এপস্টিনের এক সাবেক কারাসঙ্গী নিকোলাস তারতাগলিওনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নিউইয়র্ক টাইমসের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত এই নথিটি অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও চার হত্যাকাণ্ডের দায়ে দণ্ডিত নিকোলাস তারতাগলিওন দাবি করেছেন যে, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে এপস্টিন যখন প্রথমবার আত্মহত্যার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলেন, তখন তিনি চিরকুটটি খুঁজে পান। তারতাগলিওনের ভাষ্য অনুযায়ী, এপস্টিন তার একটি বইয়ের ভেতরে চিরকুটটি গুঁজে রেখেছিলেন। 

তিনি আরও দাবি করেন, ওই সময় তিনি জেগে উঠে সিপিআর দিয়ে এপস্টিনের জ্ঞান ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং ঘটনার প্রমাণ হিসেবেই এপস্টিন চিরকুটটি লিখেছিলেন। যদিও মার্কিন বিচার বিভাগ স্বচ্ছতার স্বার্থে নথিটি প্রকাশের বিরোধিতা করেনি, তবে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে যে এই চিরকুটের বিষয়বস্তু বা এর সত্যতা সম্পর্কে সরকারের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

এপস্টিনের প্রথমবার আত্মহত্যার চেষ্টার বিষয়টি নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা ছিল। ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই কারাগারের মনোবিদের কাছে দেওয়া এক বিবৃতিতে এপস্টিন দাবি করেছিলেন, তার জীবন শেষ করার কোনো ইচ্ছা নেই এবং তিনি মামলার লড়াই চালিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। 


এমনকি প্রাথমিকভাবে তিনি তার কারাসঙ্গী তারতাগলিওনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ আনলেও পরে তা প্রত্যাহার করে নেন। ওই সময়কার মেডিকেল রিপোর্টে তাঁর গলায় হাতে তৈরি ফাঁসের দাগ এবং আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারে বিচারের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ময়নাতদন্তে সেটিকে আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করা হয়।

জেফরি এপস্টিনের মৃত্যুকে ঘিরে গত কয়েক বছর ধরে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ডালপালা মেললেও মার্কিন বিচার বিভাগ বরাবরই কোনো খুনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। গত বছর প্রকাশিত এক মেমোতে এবং ১০ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজে বিচার বিভাগ দাবি করেছে, এপস্টিনের মৃত্যুর দিন তার কারাকক্ষে বাইরের কেউ প্রবেশ করেনি। 

তবুও নতুন করে এই ‘সুইসাইড নোট’ সামনে আসায় এপস্টিন কাণ্ড নিয়ে জনমনে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে হস্তলিপি বিশেষজ্ঞরা চিরকুটটির বৈধতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র: সিএনএন

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: