বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা ও সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতার মধ্যে প্রথমবারের মতো নিজেদের তৈরি আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সামনে এনেছে তুরস্ক।
ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ‘সাহা ২০২৬’ প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে ‘ইলদিরিমহান’ নামের এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রটি উন্মোচন করা হয়। ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ইউরোপ, এশিয়া এবং আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।
শব্দের চেয়ে ২৫ গুণ দ্রুতগতিতে চলতে সক্ষম এই সমরাস্ত্রটি তৈরির মাধ্যমে তুরস্ক নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্পকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার মধ্যেই আঙ্কারার এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে সমরবিদদের নজরে এসেছে।
তুরস্কের এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন এমন এক সময়ে হলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির মহড়া বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে, যেখানে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন লক্ষ্যবস্তুগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রতিযোগিতাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। তুরস্কের এই নতুন সংযোজন আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বের আইসিবিএম ভাণ্ডারে বর্তমানে রাশিয়ার আধিপত্য সবচেয়ে বেশি। রাশিয়ার ‘আরএস-২৮ সারমাত’, যা পশ্চিমা বিশ্বে ‘শয়তান-২’ নামে পরিচিত, প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
এর পরেই অবস্থান করছে উত্তর কোরিয়া, যাদের ‘হোয়াসং-২০’ ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা প্রায় ১৫ হাজার কিলোমিটার এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো শহরে পৌঁছাতে সক্ষম। অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ১০ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ইরানের এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে, যা সাম্প্রতিক যুদ্ধে তেহরানের অন্যতম বড় শক্তির জায়গা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়া চীন ও ইউরোপের দেশগুলোর হাতেও সাড়ে পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি পাল্লার একাধিক আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। তুরস্কের ‘ইলদিরিমহান’ মূলত এই শক্তিশালী দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে আঙ্কারার অবস্থান নিশ্চিত করল।
শব্দের চেয়ে বহুগুণ গতি সম্পন্ন হওয়ায় এটি যেকোনো আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, তুরস্কের এই নিজস্ব প্রযুক্তি নির্ভর সমরাস্ত্র নির্মাণ বিশ্ববাজারে তাদের অস্ত্রের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
সূত্র: দ্য জেরুজালেম পোস্ট
সময়ের আলো/টিএইচ