রক্তের উত্তরাধিকারী ঝুঁকি রোধে সচেতনতা দরকার

ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ

মতামত

প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত হয়। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া নামক জিনগত রক্তরোগ সম্পর্কে

2026-05-08T05:23:42+00:00
2026-05-08T05:23:42+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
রক্তের উত্তরাধিকারী ঝুঁকি রোধে সচেতনতা দরকার
ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৫:২৩ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
প্রতি বছর ৮ মে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস পালিত হয়। এই দিবসের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী থ্যালাসেমিয়া নামক জিনগত রক্তরোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, রোগীদের প্রতি সহানুভূতি গড়ে তোলা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা। থ্যালাসেমিয়া একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বংশগত রক্তরোগ, যা অনেক সময় নীরবে একটি পরিবার থেকে আরেকটি পরিবারে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি শুধু নয়, পুরো পরিবারই শারীরিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে চরম চাপে পড়ে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতি সত্ত্বেও থ্যালাসেমিয়া এখনও একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে এর প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে বেশি।

থ্যালাসেমিয়া কী : থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত  রক্তরোগ, যা পিতা-মাতার কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়। এই রোগে শরীরে স্বাভাবিক হিমোগ্লোবিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। হিমোগ্লোবিন হলো রক্তের সেই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা ফুসফুস থেকে অক্সিজেন শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে দেয়।

হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। ফলে রোগী ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্লান্তি অনুভব করে এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজেও সমস্যা দেখা দেয়। গুরুতর ক্ষেত্রে রোগীদের নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়, যা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল চিকিৎসা প্রক্রিয়া।

থ্যালাসেমিয়া মূলত দুই ধরনের-

আলফা থ্যালাসেমিয়া : আলফা গ্লোবিন জিনে ত্রুটির কারণে এই রোগ হয়। এর তীব্রতা হালকা থেকে অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থাতেই শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিটা থ্যালাসেমিয়া : এটি তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে বেশি জটিল। এর তিনটি প্রধান ধাপ রয়েছে- থ্যালাসেমিয়া মাইনর : বাহক অবস্থায় থাকে, সাধারণত উপসর্গ কম বা থাকে না, থ্যালাসেমিয়া ইন্টারমিডিয়া : মাঝারি মাত্রার রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় ।

থ্যালাসেমিয়া মেজর : গুরুতর অবস্থা, নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন প্রয়োজন হয়। থ্যালাসেমিয়া মেজর রোগীরা সাধারণত শিশু বয়স থেকেই চিকিৎসার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। থ্যালাসেমিয়ার প্রধান কারণ হলো বংশগত জিনগত ত্রুটি। এই রোগ ছড়ানোর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি রয়েছে- পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়া বাহক হওয়া, নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে।

বংশগত ইতিহাস থাকা :  সচেতনতার অভাব। একই পরিবারের একাধিক প্রজন্মে এই রোগ দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো- অনেক সময় বাহক ব্যক্তি নিজের রোগ সম্পর্কে জানেন না, ফলে অজান্তেই পরবর্তী প্রজন্মে রোগ ছড়িয়ে পড়ে। 

থ্যালাসেমিয়ার লক্ষণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলো হলো- দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও দুর্বলতা, ত্বক ফ্যাকাশে বা হলদেটে হওয়া, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হাঁপিয়ে যাওয়া, শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, পেট ও প্লীহা বড় হয়ে যাওয়া, মুখমণ্ডলের হাড়ের গঠন পরিবর্তন ।

ঘন ঘন রক্তস্বল্পতা : শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে জীবনঝুঁকি পর্যন্ত তৈরি হয়। থ্যালাসেমিয়া শুধু রক্তস্বল্পতা নয়, এটি একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। যেমন- হৃদযন্ত্রের সমস্যা, লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, হরমোনজনিত সমস্যা, শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া, শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমা হওয়া।  মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্নতা।

নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের কারণে শরীরে অতিরিক্ত আয়রন জমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে যদি তা নিয়ন্ত্রণ না করা হয়।

বাংলাদেশের বাস্তবতা : বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বাস্তব চিত্র অত্যন্ত উদ্বেগজনক- ৮-১০ শতাংশ জনগণ থ্যালাসেমিয়া জিন বহন করে, প্রতি বছর ৮,০০০-১০,০০০ শিশু আক্রান্ত হয়ে জন্মায়, দেশে ৫০,০০০-৬০,০০০ রোগী চিকিৎসাধীন, অধিকাংশ রোগী নিয়মিত রক্ত সঞ্চালনের ওপর নির্ভরশীল রক্তব্যাংকের সীমাবদ্ধতা, সচেতনতার অভাব এবং নিয়মিত স্ক্রিনিং না থাকায় রোগীরা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন।

প্রতিরোধ : থ্যালাসেমিয়া সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ। প্রধান প্রতিরোধ ব্যবস্থা হলো-
বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করে বাহক শনাক্ত করা, জেনেটিক কাউন্সেলিং গ্রহণ করা, বাহক দম্পতির সচেতন সিদ্ধান্ত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা, জাতীয় পর্যায়ে স্ক্রিনিংব্যবস্থা চালু করা। সঠিক সচেতনতা থাকলে নতুন রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

সতর্কতা : বিয়ের আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করা, থ্যালাসেমিয়া বাহক হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া,  নিকটাত্মীয়ের মধ্যে বিয়ে এড়িয়ে চলা, শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি রক্তস্বল্পতা হলে পরীক্ষা করা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো। এই সাধারণ সতর্কতাগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বড় ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে।

চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপনা : থ্যালাসেমিয়া সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য না হলেও এটি নিয়ন্ত্রণযোগ্য। ব্যবস্থাপনায় রয়েছে- নিয়মিত রক্ত সঞ্চালন, আয়রন নিয়ন্ত্রণের ওষুধ, সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য, সংক্রমণ প্রতিরোধ,  নিয়মিত চিকিৎসা ফলোআপ। মানসিক সহায়তা ও কাউন্সেলিং। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ফলে অনেক রোগী এখন দীর্ঘদিন অপেক্ষাকৃত স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন।

সামাজিক ও জাতীয় ভূমিকা : থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও স্বাস্থ্য খাতকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণ সমাজকে বিশেষভাবে সচেতন করা জরুরি, কারণ তাদের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রভাবিত করে।

জাতীয় পর্যায়ে যদি বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং চালু করা হয়, রক্তব্যাংক শক্তিশালী করা হয় থ্যালাসেমিয়া রেজিস্ট্রি তৈরি করা হয়, বিনামূল্যে পরীক্ষা ও পরামর্শ দেওয়া হয়। তা হলে রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের অগ্রগতি সম্ভব।

হোমিও সমাধান : হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা পদ্ধতির মূলনীতি হলো- ‘রোগ নয়, রোগীকে চিকিৎসা করা’। অর্থাৎ একই রোগে আক্রান্ত হলেও প্রত্যেক ব্যক্তির শারীরিক গঠন, মানসিক অবস্থা, উপসর্গের ধরন, রোগের তীব্রতা ও ওষুধের প্রতি প্রতিক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। তাই হোমিওপ্যাথিতে শুধু রোগের নামের ভিত্তিতে নয়, বরং রোগীর সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক অবস্থার মূল্যায়নের মাধ্যমে ওষুধ নির্বাচন করা হয়।

থ্যালাসেমিয়ার মতো দীর্ঘমেয়াদি জটিল অবস্থায় হোমিওপ্যাথিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনার ক্ষেত্রে রোগীর দুর্বলতা, রক্তস্বল্পতা, শ্বাসকষ্ট, শারীরিক গঠন, জীবনযাপন ও অন্যান্য সহ-উপসর্গ মূল্যায়ন করে অভিজ্ঞ চিকিৎসক প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। তবে মনে রাখা জরুরি- থ্যালাসেমিয়া একটি জিনগত রক্তরোগ, তাই নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

থ্যালাসেমিয়া বা রক্তস্বল্পতাজনিত উপসর্গভিত্তিক আলোচনায় ব্যবহৃত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ফেরাম ফস, ক্যালকেরিয়া ফস,  ন্যাট্রাম মিউর,  আর্সেনিকাম অ্যালবাম,  চায়না অফিসিনালিস,  ফসফরাস, ক্যালকেরিয়া কার্ব,  লাইকোপোডিয়াম, পালসাটিলা,  সেপিয়া,  কার্বো ভেজ, নাক্স ভোমিকা, সালফার, অরাম মেট,  কালি ফস, সিঙ্কোনা,  অ্যাপিস মেল, জেলসেমিয়াম ইত্যাদি। উপসর্গ, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ব্যবহারের আলোচনা হতে পারে।

হোমিওপ্যাথিক সতর্কতা : হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা গ্রহণের আগে অবশ্যই একজন যোগ্য ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত। একই রোগে সবার জন্য একই ওষুধ কার্যকর নাও হতে পারে। অপ্রয়োজনীয়ভাবে বা ঘন ঘন ওষুধগ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে। একসঙ্গে একাধিক ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন।

ওষুধ গ্রহণের আগে ও পরে অন্তত ১৫-২০ মিনিট কিছু খাওয়া বা পান করা থেকে বিরত থাকা ভালো। কফি, পুদিনা ও তীব্র গন্ধযুক্ত কিছু পদার্থ অনেক ক্ষেত্রে ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব ফেলতে পারে। নিজে নিজে চিকিৎসা করা থেকে বিরত থাকা নিরাপদ সিদ্ধান্ত। তীব্র শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, বুকে চাপ বা জরুরি উপসর্গ দেখা দিলে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হোমিও চিকিৎসক না পাইলে দ্রুত প্রচলিত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন পর্যবেক্ষণ, প্রয়োজনীয় রক্ত সঞ্চালন, আয়রন নিয়ন্ত্রণ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। তাই যেকোনো সহায়ক চিকিৎসা গ্রহণের আগে রোগীর সার্বিক নিরাপত্তা ও বৈজ্ঞানিক চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া। 

থ্যালাসেমিয়া শুধু একটি রক্তরোগ নয়, এটি একটি জিনগত ও জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এর প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় রোগীরা তুলনামূলক ভালো জীবনযাপন করলেও নতুন রোগীর জন্ম প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশে জাতীয় স্ক্রিনিং, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রক্তব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে পারলে থ্যালাসেমিয়ার বোঝা অনেকাংশে কমে আসবে। সর্বোপরি, থ্যালাসেমিয়া মুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রতিটি পরিবারকে দায়িত্বশীল হতে হবে এবং বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

লেখক ও জনস্বাস্থ্য বিশ্লেষক

সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   রক্তদান  উত্তরাধিকার  ঝুঁকি  সচেতনতা 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: