রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে রুশ বাহিনীর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে গিয়ে উত্তর কোরিয়ার অন্তত ২ হাজার ৩০০ জন সেনা নিহত হয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পিয়ংইয়ংয়ে সম্প্রতি উন্মোচিত একটি সামরিক স্মৃতিসৌধের স্যাটেলাইট চিত্র ও সরকারি আলোকচিত্র বিশ্লেষণ করে এই নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে আকস্মিক অনুপ্রবেশ করলে তা প্রতিহত করতে অন্তত ১১ হাজার সেনা পাঠিয়েছিলেন কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই অভিযানে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। যদিও মস্কো দাবি করেছে, তারা কুরস্ক অঞ্চল পুরোপুরি শত্রুমুক্ত করেছে, তবে কিম বাহিনীর জন্য এই বিজয় এসেছে চরম প্রাণের বিনিময়ে। বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে খাদ্য সহায়তা, অর্থ ও উন্নত সামরিক প্রযুক্তি পেয়েছে পিয়ংইয়ং।
নিহতদের সম্মান জানাতে ২০২৫ সালের অক্টোবরে পিয়ংইয়ংয়ের হুয়াসং জেলায় একটি জাদুঘর ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের নির্দেশ দেন কিম জং উন। গত ২৬ এপ্রিল এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মোচন করা হয়। প্ল্যানেট ল্যাবসের সরবরাহ করা স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে বিবিসি জানিয়েছে, স্মৃতিসৌধের ৩০ মিটার দীর্ঘ দুটি বিশাল দেওয়ালে অত্যন্ত ক্ষুদ্র অক্ষরে নিহত সেনাদের নাম খোদাই করা হয়েছে। বিশেষ হিসাব অনুযায়ী, দেওয়ালের আয়তন ও অক্ষরের ঘনত্ব বিবেচনায় এখানে খোদাই করা নামের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যাবে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার দেওয়া তথ্যের (২ হাজার নিহতের খবর) প্রায় কাছাকাছি।
এসআই অ্যানালিটিক্সের তথ্যমতে, এই স্মৃতিসৌধে তিন স্তরের সম্মাননার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অসামান্য বীরত্ব দেখানো প্রায় ২৭৮ জন সেনার জন্য বাইরে বিশেষ সমাধি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া একটি তিনতলা ভবনের ভেতরে অন্তত এক হাজার সেনার চিতাভস্ম রাখার জন্য সংরক্ষিত কক্ষ (কলাম্বেরিয়াম) তৈরি করা হয়েছে। বাকিদের নাম দেওয়ালে খোদাই করে স্মরণে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এত বিপুল প্রাণহানির পর দেশের অভ্যন্তরে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্যই এই বিশাল স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেছে উত্তর কোরিয়া। এর মাধ্যমে কিম জং উন বোঝাতে চাইছেন, তার সেনারা দেশের স্বার্থে এবং মিত্র দেশ রাশিয়ার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। উল্লেখ্য, ওই এলাকায় রাশিয়ার যুদ্ধফেরত প্রবীণ সৈনিক ও নিহতদের পরিবারের জন্য একটি অত্যাধুনিক আবাসন প্রকল্পও গড়ে তোলা হয়েছে।
/কহু