চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলন্ত কাভার্ড ভ্যান থেকে প্রায় ৭ লাখ টাকা মূল্যের রফতানিযোগ্য গার্মেন্টস পণ্য লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৮ মে) প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মিরসরাই সার্কেল) মো. নাদিম হায়দার চৌধুরী জানান, অভিযানে লুণ্ঠিত অধিকাংশ পণ্য এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত দুটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতাররা হলেন, মো. নাজিম মিয়া (২৫), মো. হারুন ওরফে ভাইসাব (২৯), মো. সোহাগ (২২), মো. নজরুল ইসলাম (৪৬)।
তিনি জানান, গত ২৩ এপ্রিল ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরসরাই থানাধীন ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের রংধনু ফিলিং স্টেশনের সামনে এই লুটের ঘটনা ঘটে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে রফতানিযোগ্য টি-শার্ট নিয়ে কাভার্ড ভ্যানটি চট্টগ্রামের কেডিএস ডিপোর দিকে যাচ্ছিল। পথে ডাকাত দল কাভার্ড ভ্যান থেকে ৩৪টি কার্টনে থাকা ৬০৯ পিস টি-শার্ট লুট করে নিয়ে যায়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭ লাখ ৩৫০ টাকা। ঘটনার পর মেসার্স সিয়াম ট্রান্সপোর্ট এজেন্সির ম্যানেজার মো. আলতাফ হোসেন খান বাদী হয়ে মিরসরাই থানায় মামলা করেন। মামলার প্রাথমিক তদন্তে কাভার্ড ভ্যান চালক ফরহাদ আলীকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন যে, কাভার্ড ভ্যান মালিক জহিরুল ইসলামের সরাসরি যোগসাজশে এই মালামাল আত্মসাৎ ও লুটের নাটক সাজানো হয়েছিল।
নাদিম চৌধুরীর নেতৃত্বে মিরসরাই থানা পুলিশের বিশেষ টিম চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া ও সদরঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
নাদিম চৌধুরী আরও জানান, গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর একটি গোডাউন থেকে লুণ্ঠিত ৩৩টি কার্টনে থাকা ৫৯৮ পিস টি-শার্ট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার পণ্যের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়া ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দুটি খোলা পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়।
লুটের ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। চালক ও মালিকের যোগসাজশেই এই ঘটনা ঘটেছিল। লুণ্ঠিত প্রায় সব মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই