সীতাপাহাড়ের ভরসা জরাজীর্ণ বিদ্যালয়

তালুকদার মো. ইলিয়াছ কাপ্তাই (রাঙামাটি)

সারাদেশ

কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অতি দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত সীতাপাহাড় যেখানে শতাধিক মারমা পরিবারের বসবাস। এই পরিবারগুলোর ছোট

2026-05-09T01:21:26+00:00
2026-05-09T01:21:26+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সীতাপাহাড়ের ভরসা জরাজীর্ণ বিদ্যালয়
তালুকদার মো. ইলিয়াছ কাপ্তাই (রাঙামাটি)
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:২১ এএম 
সীতা পাহাড় প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছবি : সংগৃহীত
কাপ্তাইয়ের রাইখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে অতি দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত সীতাপাহাড় যেখানে শতাধিক মারমা পরিবারের বসবাস। এই পরিবারগুলোর ছোট ছোট কোমলমতি শিশুর পাঠদানের একমাত্র ভরসা একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তাও সেটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। সেখানেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেখাপড়া করছে কোমলমতি শিশুরা। এ বিষয়ে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, আমি অনেকবার ওই এলাকা পরিদর্শনের চেষ্টা করেছি। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে দুর্গম পাহাড়ি পথ পায়ে হেঁটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমি শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 

অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। ডলুছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে সীতাপাহাড় এলাকাটি প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে এবং যাতায়াত অত্যন্ত কষ্টকর। আমি ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অধিদফতরে একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়ে রেখেছি। 

সরেজমিন দেখা যায়, কাপ্তাই উপজেলায় সমতল থেকে প্রায় কয়েকশ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই সীতাপাহাড়। আধুনিক সভ্যতার ছোঁয়া থেকে আজও অনেকটাই বিচ্ছিন্ন এই জনপদ। নেই কোনো গাড়ি যাতায়াতের ব্যবস্থা। রয়েছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। উঁচু-নিচু পাহাড় আর বহুদূর পথ পাড়ি দিয়ে এই এলাকা থেকে উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো পায়ে হাঁটা। যাতায়াতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় কোমলমতি শিশুদের পক্ষে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ হেঁটে শিক্ষা গ্রহণ করা কার্যত অসম্ভব। এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী এবং চরম অস্বচ্ছল। পেটের দায়ে যুদ্ধ করা এসব মানুষের কাছে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো এখন বিলাসিতা মাত্র।
আরও পড়ুন

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৯৫ সালে ‘সংগ্রাম’ নামক একটি এনজিও সংস্থা এই দুর্গম এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিল। দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলটি ছিল এই শিশুদের একমাত্র ভরসা। জেলা পরিষদের মাধ্যমে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা প্রদান করা হতো। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ৫ বছর আগে স্কুলটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে জীর্ণ ও পরিত্যক্ত বেড়ার ঘরটি অচল ও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। শিক্ষকরাও স্কুল বন্ধ হওয়ার পর আর এলাকায় ফেরেননি।

বিদ্যালয়টি বন্ধ হওয়ায় যখন শিশুদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত, তখন আশার প্রদীপ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় যুবসমাজ। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সেই ভাঙা স্কুল ঘরটিতেই এলাকার শিক্ষিত তরুণ অংসাচিং মারমা ও তরুণী সাইনুচিং মারমা নিজেদের উদ্যোগে শিশুদের পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। কোনো বেতন বা প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা ছাড়াই কেবল শিশুদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের স্পষ্ট কথা, প্রাথমিক শিক্ষা ছাড়া আমাদের জনপদের উন্নতির কোনো বিকল্প নেই। তাই কষ্ট হলেও আমরা হাল ছাড়িনি। 

শিক্ষার অভাবের পাশাপাশি এই এলাকায় বড় সংকট সুপেয় পানি। শুষ্ক মৌসুমে প্রাকৃতিক ছড়া শুকিয়ে গেলে এলাকায় পানির হাহাকার পড়ে যায়। আবার বর্ষাকালে পাহাড় থেকে নেমে আসা ময়লা ও ঘোলা অস্বাস্থ্যকর পানি বাধ্য হয়ে পান করতে হয়।

এতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে প্রায়ই আক্রান্ত হয় এলাকার শিশু ও বৃদ্ধরা। সীতাপাহাড় এলাকার কার্বারি পাইচিংমং মারমা, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ক্যথোয়াই অং মারমা এবং স্থানীয় ব্যক্তিত্ব সের খান আক্ষেপের সুরে বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা শিক্ষার অভাবে দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া আমাদের স্বপ্নটা আজ ধ্বংসস্তূপ।

আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, আমাদের এই দুর্গম এলাকায় একটি স্থায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং পানীয় জলের সুব্যবস্থা করে এই অবহেলিত মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষা করুন।

স্থানীয়রা বলছেন, পাহাড়ের এই দুর্গম জনপদ কি তবে অন্ধকারেই থেকে যাবে? নাকি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে সীতাপাহাড়ের শিশুদের কলকাকলিতে মুখরিত হবে কোনো নতুন বিদ্যালয়? এক বুক প্রত্যাশা নিয়ে সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এলাকাবাসী।

এএডি/


  বিষয়:   পাহাড়  ভরসা  জরাজীর্ণ  বিদ্যালয়  কাপ্তাই  রাঙামাটি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: