ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় থমকে গেছে যান্ত্রিক জীবন। যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের প্রধান মাধ্যম মোটরসাইকেলগুলো এখন অচল হয়ে পড়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে জীবন ও জীবিকার তাগিদে যান্ত্রিক বাহন ছেড়ে বাইসাইকেল হাতে তুলে নিয়েছেন ডেলিভারি কর্মীরা। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া রাস্তা আর চারদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর ট্যাংক ও গোলার শব্দকে উপেক্ষা করেই চলছে তাদের এই জীবনসংগ্রাম।
জ্বালানি তেলের অভাবে গাজার পার্সেল ডেলিভারি সেবা এখন পুরোপুরি বাইসাইকেল-নির্ভর। একজন ডেলিভারি কর্মী জানান, একটি অর্ডারের জন্য তাদের গাজার বিধ্বস্ত রাস্তা দিয়ে কখনও কখনও যাওয়া-আসা মিলিয়ে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। যুদ্ধের কারণে প্রতিটি মোড়ে ছড়িয়ে আছে গোলার অবশিষ্টাংশ ও ধ্বংসস্তূপ, যা সাইকেল চালানোকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে।
শুধু রাস্তার বেহাল দশা নয়, এই কর্মীদের জীবনের ঝুঁকিও চরমে। পণ্য পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেক সময় তাদের ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অবস্থান বা তথাকথিত ‘ইয়েলো লাইনের’ অতি নিকটে চলে যেতে হয়। যেকোনো মুহূর্তে হামলার আশঙ্কা মাথায় নিয়েই তারা ছুটছেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে।
সীমাহীন কষ্টের কথা উল্লেখ করে এক কর্মী বলেন, পথ দীর্ঘ এবং বোঝা ভারী, কিন্তু আমরা পিছু হঠিনি। এই চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দিচ্ছি। আমরা সাধ্যমতো যত্ন ও আন্তরিকতার সাথেই আমাদের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি।
/কহু