একসময় পদ্মার ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে দিশেহারা ছিলেন অনেক মানুষ। সেই পদ্মার বুকেই জেগে ওঠা নতুন চর এখন বদলে দিয়েছে তাদের জীবনচিত্র। মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে এখন কালিজিরার সুবাস ছড়াচ্ছে। অনাবাদি বালুচর পেরিয়ে সেখানে চাষ হচ্ছে বিভিন্ন ফসল। চলতি মৌসুমে কালিজিরার বাম্পার ফলনে সবচেয়ে বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, এ বছর শিবচরে মোট এক হাজার ৪২৫ হেক্টর জমিতে কালিজিরার আবাদ হয়েছে। শুধু চরজানাজাত ইউনিয়নেই প্রায় ৯৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। পলিমাটির উর্বরতা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘ঔষধিগুণসম্পন্ন কালিজিরার চাহিদা দেশে দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় উৎপাদন কম হওয়ায় প্রতি বছর বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ কালিজিরা আমদানি করতে হয়। আমদানিনির্ভরতা কমাতে চরাঞ্চলে এই ফসলের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।’
চরজানাজাত ইউনিয়নের নতুন চরের বেপারীকান্দি গ্রামের কৃষক সামাদ মোল্লা জানান, তিন বিঘা জমিতে কালিজিরার আবাদ করেছিলেন তিনি। গত সপ্তাহে ফসল তুলেছেন। তার জমিতে প্রায় সাত মণ ফলন হয়েছে। বাজারে প্রতি মণ ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হলেও এবার লাভে সন্তুষ্ট তিনি।
কৃষক রেজু বেপারী জানান, পদ্মার ভাঙনে একসময় সব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাদের। পরে আবার চরে ফিরে নতুন করে ঘরবাড়ি গড়ে তোলেন। এবার চার বিঘা জমিতে কালিজিরা চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে সেচ ও তেলের সংকটে কিছুটা ভোগান্তির কথাও জানান তিনি।
কৃষকেরা বলছেন, ‘চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত কৃষিসেবা পৌঁছেনি। সেচব্যবস্থা ও কৃষি বিভাগের নিয়মিত তদারকি বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।’
কৃষক রিপন বেপারীর ভাষ্য, ‘শুষ্ক মৌসুমে গভীর নলকূপ বা আধুনিক সেচসুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এই চরাঞ্চল দেশের অন্যতম শস্যভাণ্ডারে পরিণত হতে পারে।’
শিবচর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলিমুজ্জামান খান বলেন, ‘রবি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলে কালিজিরার আবাদ বেড়েছে। কম খরচে লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে। চরজানাজাত ইউনিয়নের পলিমাটি কালিজিরা চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় এবার ফলনও বেশ ভালো হয়েছে।’
/মহু