রাজধানীর উপকণ্ঠ ও ইটভাটা অধ্যুষিত মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ভিটিবালু, মাটি ও কয়লাবাহী ১০ চাকার ড্রাম ট্রাকের অবাধ চলাচলে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ছে। অতিরিক্ত ওজনের এসব যানবাহনের কারণে বিভিন্ন এলাকার পাকা সড়কে সৃষ্টি হয়েছে খানা-খন্দের। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান চললেও কার্যকরভাবে বন্ধ করা যাচ্ছে না ভারী যানবাহনের চলাচল। কিছু ট্রাকে ‘সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত’, ‘ট্রাস্ট গ্রিন সিটি’ ও ‘আর্মি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’ লেখা স্টিকার ব্যবহার করায় সেগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন একটি জমিতে ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক থেকে ভিটিবালু ফেলা হচ্ছে। ট্রাকটির সামনের গ্লাসে ‘সেনাবাহিনীর কাজে নিয়োজিত’ লেখা স্টিকার লাগানো ছিল।
চালক রবিন জানান, ট্রাকটির মালিক ঢাকার আমিনবাজারের সাহাদাত এন্টারপ্রাইজ। তারা সিংগাইরসহ মানিকগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ভিটিবালু সরবরাহ করেন। সেনাবাহিনীর স্টিকার ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, রাতে সেনাবাহিনীর একটি প্রকল্পে বালু সরবরাহ করি। সে কারণে স্টিকার দেওয়া হয়েছে, যাতে পথে আইনগত ঝামেলা না হয়।
শায়েস্তা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ টন বালু বা মাটি বহনকারী ১০ চাকার ড্রাম ট্রাক গ্রামীণ সড়কে চলাচলের কোনো অনুমোদন নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী ইকবাল হোসেন বলেন, দিন-রাত ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অল্প সময়েই রাস্তাগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে।
চান্দহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তারিকুর রহমান আলাল বলেন, সিংগাইরের অধিকাংশ গ্রামীণ সড়ক ভারী যান চলাচলের উপযোগী নয়। তারপরও ওভারলোড ট্রাক চলাচলে সড়কগুলো বেহাল হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, গ্রামীণ সড়কে ৮ থেকে ১০ টনের বেশি ওজন নিয়ে যানবাহন চলাচলের সুযোগ নেই। অতিরিক্ত ওজনের ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণেই সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই