আসন্ন বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরী ৭০ থেকে ৮০ ভাগ জলাবদ্ধতামুক্ত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
শনিবার (৯ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ‘জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হল’-এ আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জলাবদ্ধতা নিরসনে অগ্রগতি
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতা, সংকটের উৎস ও নাগরিক দায়বদ্ধতা’ শীর্ষক সেমিনারে মেয়র বলেন, আমি নগরীর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিরাশা দেখি না। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, চকবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় মানুষ পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারেনি। কিন্তু ২০২৫ সালে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে।
মেয়র আরও যোগ করেন, বহদ্দারহাটের নালার ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি মার্কেট ভেঙে দেওয়ায় ওই এলাকায় এখন আর পানি জমে না। অথচ ওই মার্কেট থেকে বছরে ২০ লাখ টাকা ভাড়া পেত সিটি করপোরেশন। নগরবাসীর সেবায় আমি কোনো আপস করিনি।
জলবায়ু পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ষড়ঋতুর দেশ হলেও এখন ঋতুচক্র বদলে গেছে। গত বছর আমরা প্রায় ছয় মাস বর্ষাকাল দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এবারও জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের প্রস্তুতি নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। তবে জোয়ারের পানির বিষয়টি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেটি নিয়ে কিছুটা শঙ্কা কাজ করছে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে সেমিনারটি উদ্বোধন করেন দৈনিক আজাদি সম্পাদক এম এ মালেক। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি এবং এই সেমিনার থেকে প্রাপ্ত দিকনির্দেশনা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার নুরুল করিমও সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আল আমিন, চুয়েটের অধ্যাপক আয়েশা খানম এবং বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মনজুরুল কিবরিয়া। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনটিভির ব্যুরো প্রধান শামসুল হক হায়দরী।
বক্তারা দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল উদ্ধার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং নাগরিকদের ময়লা-আবর্জনা যত্রতত্র না ফেলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সময়ের আলো/জোই