যুক্তরাষ্ট্রে জরাজীর্ণ বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর নামে কয়েক কোটি সাধারণ গ্রাহকের ওপর অদৃশ্য আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করার বহু আগেই নির্মাণাধীন অবকাঠামোর খরচ গ্রাহকদের মাসিক বিলের সঙ্গে যুক্ত করে আদায় করা করা হচ্ছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা সঞ্চালন লাইনের কাজ শেষ হওয়ার পর তার খরচ গ্রাহকদের ওপর বর্তানোর নিয়ম থাকলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৪০টি অঙ্গরাজ্যে সেই নিয়ম উল্টে দেওয়া হয়েছে। কনস্ট্রাকশন ওয়ার্ক ইন প্রগ্রেস বা সিডব্লিউআইপি নামক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকল্প চলাকালীনই গ্রাহকদের পকেট থেকে অর্থ তুলে নিচ্ছে ইউটিলিটি কোম্পানিগুলো। এক দশক আগের তুলনায় বর্তমানে এই ব্যবস্থার বিস্তার দ্বিগুণ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যাপক প্রসারের ফলে বড় বড় ডেটা সেন্টারগুলোতে বিদ্যুতের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। এই বাড়তি চাহিদা মেটাতে গিয়ে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলো বড় বড় প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের বিপুল ব্যয়ভার নিজেরা বহন না করে নীতিনির্ধারকদের সহযোগিতায় তা সরাসরি গ্রাহকদের মাসিক বিলে কয়েক ডলার করে চাপিয়ে দিচ্ছে। অথচ সাধারণ মানুষ জানেই না কেন তাদের বিদ্যুৎ বিল উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ভার্জিনিয়ায় একটি সাগরে নির্মিতব্য বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার আগেই গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার আদায় করে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানি। নেভাদায় সঞ্চালন লাইনের খরচের নামে গ্রাহকদের মাসিক ৪ ডলার করে বাড়তি দিতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পেতে একজন গ্রাহককে ৫২ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। অর্থাৎ বর্তমানে যার বয়স ৪০ বছর, তিনি ৯২ বছর বয়সে গিয়ে হয়তো এর সুফল দেখবেন। এছাড়া জর্জিয়ায় একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় মূল বাজেটের চেয়ে দ্বিগুণ হওয়ায় এবং বছরের পর বছর দেরি হওয়ায় গ্রাহকদের মাথাপিছু প্রায় ১০০০ ডলার গচ্চা দিতে হয়েছে।
এই ব্যবস্থার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জর্জিয়ায় সম্প্রতি এই ইস্যুতে দুজন পাবলিক সার্ভিস কমিশনারকে পদচ্যুত করেছেন ক্ষুব্ধ ভোটাররা। ভোক্তা অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর মতে, এটি মূলত সাধারণ মানুষকে ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়ন্ত্রিত প্রকল্পে বিনিয়োগ করার এক কূটকৌশল।
অন্যদিকে দেশটির নীতিনির্ধারকদের যুক্তি হলো, এই পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা কমে এবং গ্রাহকদের ওপর হঠাৎ করে বড় অঙ্কের আর্থিক চাপ পড়ে না। তবে বাস্তবতা হলো গত পাঁচ বছরে দেশটিতে বিদ্যুতের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র/রয়টার্স
/কহু