টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল অবস্থার কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব, জনবল সংকট, ওষুধের ঘাটতি ও জরাজীর্ণ অবকাঠামোর কারণে অনেক ক্লিনিক এখন কার্যত সেবাহীন। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গ্রামের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক রোগীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৩৭টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে ২৪টিই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে ১৫টি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৯টি সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। লাঙ্গুলিয়া, ঘেচুয়া এবং বিসিবাঈদ—এই তিনটি ক্লিনিক ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে ভবন না থাকায় এগুলো বিকল্পভাবে ভাড়া করা জায়গায় তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
লাঙ্গুলিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) স্বপ্না আক্তার বলেন, আমাদের ক্লিনিকের ভবনটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় বর্তমানে বিকল্প উপায়ে ভাড়া বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ক্লিনিক ভবনের দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, জানালা-দরজা ভাঙা এবং টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অনেক ক্লিনিকে নেই বিদ্যুৎ সংযোগ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। বর্ষাকালে ছাদের ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে কক্ষগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
কালিদাস কমিউনিটি ক্লিনিকে সেবা নিতে আসা কিরণ মালা (৪০) আক্ষেপ করে বলেন, জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু ওষুধ না পেয়েই ফিরে যাচ্ছি। শিরিন আক্তার নামের আরেক ভুক্তভোগী বলেন, ক্লিনিকে ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। আমাদের মতো দরিদ্র পরিবারের জন্য এটি চরম কষ্টের।
উপজেলা হেলথ প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ওষুধের সরবরাহ না থাকা এবং ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আমরা সঠিক সেবা দিতে পারছি না। অতীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কমিউনিটি ক্লিনিককে আরও গতিশীল করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল; আমরা আশা করি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হবে।
এ বিষয়ে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভীন জানান, উপজেলার ক্লিনিকগুলোর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই