চট্টগ্রামের রাউজানের পাহাড়তলি ইউনিয়নের জগৎপুর আশ্রম দেশি লিচুর জন্য ব্যাপক খ্যাতি রয়েছে।
প্রতি বছর লিচুর মৌসুমে এই পাহাড়ি এলাকার বাগানগুলোতে লিচুর সমারোহ দেখা যায়। তবে চলতি মৌসুমে অনাবৃষ্টি ও ফল আসার পর কয়েক দফা কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন এই এলাকার লিচুচাষীরা।
একেকটি বাগানের অনেকগুলো গাছই কালবৈশাখী ঝড়ে ভেঙে পড়েছে। লাভের মুখ দেখার সম্ভাবনা তো নেই ই, উল্টো বাগান পরিচর্যায় রাখা শ্রমিকের মজুরি ও কীটনাশকের খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছে বাগান মালিকরা।
এ বছর বাগানে লিচু কিনতে এসে হতাশ হচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র ক্রেতারাও।
তারা জানান, পাহাড়ি এই লিচু বেশ সুস্বাদু হওয়ায় প্রতিবার কিনতে আসেন তারা। এ বছর লিচু আকারে ছোট। তাই বাগানে এসে হতাশা নিয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।
বাগান মালিকরা বলছেন, ‘মুকুল আসার সময় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লিচুর ফলন ভালো হয়নি। ফলের আকারও ছোট। তারমধ্যে কালবৈশাখীতে ঝরে পড়েছে অনেক কাঁচা ফল। ফলসহ ডাল ভেঙেছে বহু গাছের। গত বছর ১শ লিচু পাইকারি ১৫০ থেকে ১৮০ বিক্রি হলেও, এবার তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
আগাম বিনিয়োগ করা অর্থ উঠে আসবে কিনা, সেই শঙ্কা এখন বাগান মালিকদের।
উল্লেখ্য, এই পাহাড়ি জনপদে দেশি লিচুর পাশাপাশি বোম্বাই, বেদানা ও চায়না থ্রি জাতের লিচুর চাষ হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলার বাইরেও যায় সুস্বাদু এই লিচু।
/মহু