পদোন্নতি ও নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার সমাধান দাবিতে ফের আন্দোলনে নেমেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমাজ। সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষকদের দাবির পক্ষে কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসায়, আগামী ১১ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শিক্ষক সমাজের প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান সংকট নিরসনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ৯ মে সকালে একটি জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করা হয়। শিক্ষক সমাজের অভিযোগ, ওই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান আইন, নীতিমালা ও চর্চা অনুযায়ী সংকট সমাধানের উদ্যোগ না নিয়ে অধিকাংশ সিন্ডিকেট সদস্যের মতামত উপেক্ষা করে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গভীর সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
এ প্রেক্ষিতে ১০ মে অনুষ্ঠিত শিক্ষকদের সাধারণ সভায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১১ মে থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম-কে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ মে থেকে ক্লাস ও পরীক্ষাসহ সকল একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ‘শাটডাউন কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে শিক্ষকদের পদত্যাগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
এর আগে আন্দোলনের অংশ হিসেবে অনশনে বসেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। অনশন চলাকালে শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিক্ষকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি জটিলতা ও প্রশাসনিক বৈষম্যের কারণে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষক সমাজের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিন্ডিকেট সদস্য ড. তানভীর কায়সার পদত্যাগ করেছেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল-ও পদত্যাগ করেছেন বলে জানা গেছে।
আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষক জানান, দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিতভাবে শিক্ষক নিয়োগ ও পদোন্নতি হলেও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০০ জনের বেশি শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২১০ জন শিক্ষক। ফলে, অধিকাংশ বিভাগ ২ থেকে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং একজন শিক্ষককে ১৪ থেকে ১৫টি কোর্সের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
শিক্ষকরা আরও জানান, দাবি আদায়ে তারা প্রয়োজন হলে প্রশাসনিক সব পদ থেকে পদত্যাগ করবেন।
/মহু