নওগাঁর ধামইরহাটে শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠ ভরা পাকা ধান কাটা ও মাড়াই করতে পারছেন না কৃষকেরা।
রোববার (১০ মে) দুপুরে পৌরসভাসহ উপজেলার আট ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। এছাড়াও হাট বাজারে ভালো দাম না পাওয়ায় ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বর্গা চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকেরা সময়ের আলোকে জানান, গত বছর এই সময় ধান কাটার জন্য দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শ্রমিকেরা এসে ভিড় জমাতেন। এ কারণে মাঠের প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কেটে ও মাড়াইয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব হতো। সেই ধান হাটবাজারে বিক্রি করে ধারদেনা শোধ করে পরিবারের চাহিদা মেটানো হতো। অথচ এ বছর তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে মাঠের ধান মাঠেই পেকে ঝরে পড়ছে। ৮০০ টাকা থেকে বারোশো টাকা দিয়েও মিলছে না শ্রমিক।
চলতি বোরো মৌসুমে চড়া মূল্যে সার-বিষ ও সেচ দিয়ে চাষাবাদ করতে হয়েছে কৃষকদের। যা গত বছরের চাইতে অনেক বেশি। অন্যদিকে অতি বৃষ্টি ও ঝড় হওয়ার কারণে কিছু ধানক্ষেত পানিতে ডুবে যাওয়ায় ফলনও হয়েছে কম। হাটবাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম না থাকায় অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি ঋণের বোঝা নিয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন চাষীরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে ওইসব এলাকার প্রায় ৭৫ শতাংশ খেতের ধান পেকে সোনালি রূপ ধারণ করতে দেখা গেছে। এক সপ্তাহ আগেই ধান কেটে মাড়াই করার কথা থাকলেও, হারভেস্টার মেশিনের ব্যবস্থা না থাকার পাশাপাশি শ্রমিকদের তীব্র সংকটের কারণে, তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
দুই একদিনের মধ্যে প্রাকৃতিক কোনও বড় দুর্যোগ হলে, মাঠের ধান ঘরে তোলা অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনই জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে ১৮ হাজার ৭৯৫ মেট্রিক টন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৮ হাজার ৮৫৫ মেট্রিক টন ধান পাওয়া যাবে।
পৌর এলাকার বর্গা চাষি লুৎফর রহমান জানান, বিঘা প্রতি ১০ মণ করে ধান দিতে হবে এমন চুক্তিতে দুই বিঘা জমি বর্গা নেন। এরপর সেই জমিতে চাষাবাদের জন্য বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণও নেন। মাঠের ধান পাকলেও ৮০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না। ধার দেনা করে ঋণের টাকা কী করে শোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ দেলুয়ার হোসেন জানান, ধান কাটা এখনও ওইভাবে শুরু হয়নি। এ কারণেই হয়ত বাইরের শ্রমিকেরা আসতে দেরি করছে। হারভেস্টার এবং কম্বাইন মেশিন দিয়ে ধান কাটা শুরু হলে, আশা করছি এই সমস্যা আর থাকবে না।
ধানের দামের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘দাম তো আমরা নির্ধারণ করি না। এ কাজে মার্কেটিংয়ের জন্য আলাদা লোক রয়েছে। তবে আকাশে রোদ থাকলে ধানের দাম আরও একটু বাড়বে।’
/মহু