চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার গোবিন্দপুর গ্রামে বিয়ের মাত্র এক মাসের মাথায় অপু ওরফে জান্নাতুল (১৮) নামে এক নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে নিহতের বাবা-মায়ের অভিযোগ, তাকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে।
শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে গোবিন্দপুর গ্রামের মিয়াপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা রেলস্টেশনপাড়ার বেদ সম্প্রদায়ের রানা বেদের মেয়ে অপু আলমডাঙ্গা পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি একজন মেধাবী ফুটবলার হিসেবেও পরিচিত ছিলেন এবং স্কুলের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দশমাইল এলাকায় তার প্রথম বিয়ে হয়। সেখানে এক বছর সংসার করার পর আর স্বামীর বাড়িতে ফিরে যাননি।
পরবর্তীতে তিনি গোবিন্দপুর মাঠপাড়ার মুরাদ ও রেকসোনা দম্পতির বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এ সময় গোপনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন জান্নাতুল। পরে প্রায় এক মাস আগে মুরাদ দম্পতির উদ্যোগে গোবিন্দপুর মিয়াপাড়ার বাসিন্দা রানার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
নিহতের স্বামী রানা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তারা একসঙ্গে বাজারে ঘুরেছেন এবং বাইরে খাবার খেয়ে বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে তিনি ঘুম থেকে উঠে দেখেন, তার স্ত্রী ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এসে তাকে নিচে নামান।
এদিকে নিহতের মা সুমিতা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। কয়েকদিন আগেও সে জানিয়েছিল, সংসারে কিছু সমস্যা চলছে। কোরবানির ইদের পর সব ঠিক না হলে চলে আসবে বলেছিল। এর মধ্যেই তাকে মেরে ফেলা হলো।’
নিহতের বাবা রানা বেদও দাবি করেন, তার মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনার আগের সন্ধ্যাতেও স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে শহরে ঘুরতে দেখা গেছে। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, যে ঘরে ঘটনাটি ঘটেছে সেটির আড়ার উচ্চতা মাটি থেকে প্রায় ৫ ফুট, আর জান্নাতুলের উচ্চতাও প্রায় সমান। ফলে আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
আলমডাঙ্গা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আজগর আলী জানান, ‘এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের স্বামী রানাকে থানায় নেওয়া হয়েছে।
/মহু