কুমিল্লায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় তার স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। এই মামলার অন্য চার আসামির জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।
রোববার (১০ মে) কুমিল্লার ১ নম্বর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হকের আদালতে আসামিরা হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। এ সময় আদালত হৃদয়ের আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার রাতে নিহত ছাত্রী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার স্কুলশিক্ষক বাবা মো. হানিফ কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলা করেন। মামলায় ফারিয়ার স্বামী হৃদয়, শ্বশুর আবদুর রহিম, শাশুড়ি আফরোজা বেগম, ননদ রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াকে আসামি করা হয়।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি কুমিল্লা সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১২তম ব্যাচের ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে তাদের বিয়ে হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর থেকে স্বামী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হচ্ছিল। টাকা দিতে না পারায় দাম্পত্য কলহ সৃষ্টি হয় এবং ফারিয়াকে একাধিকবার শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ফারিয়ার বাবার দাবি, তার মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। তিনি প্রধান আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, হৃদয়কে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।
সময়ের আলো/আআ