পবিত্র ঈদুল আজহা ও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর সংলগ্ন মশলার বাজারে জমে উঠেছে বেচাকেনা। ভারত থেকে পর্যাপ্ত আমদানির ফলে গত বছরের তুলনায় এবার সব ধরনের মশলার দাম নিম্নমুখী। এতে স্বস্তি প্রকাশ করছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ ক্রেতারা।
রোববার (১০ মে) হিলি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মশলার দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিশেষ করে এলাচ, জিরা, গোলমরিচ ও লবঙ্গের মতো প্রয়োজনীয় মশলার চাহিদা বেড়েছে বহুগুণ, দামেও কম। এতে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে ক্রেতারা।
গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে মশলার বাজারে দামের বড় ধরনের পার্থক্য লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমানে প্রায় সব ধরনের মশলার দামই গত বছরের তুলনায় অনেকটাই কম। সাদা এলাচ, গত বছর ৫৫০০ - ৫৮০০ টাকা, যা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ৪২০০ - ৪৫০০ টাকায়। কালো এলাচ, গত বছর ৩০০০ টাকা, বর্তমানে তা ২৪০০ - ২৫০০ টাকা। জিরা, গত বছর প্রতি কেজি প্রায় ৭০০ টাকা, বর্তমানে তা ৫৭০ টাকা। লবঙ্গ, গত বছর ১৮০০ টাকা, বর্তমানে তা কমে হয়েছে ১৪০০ টাকা। গোলমরিচ, গত বছরের উচ্চমূল্য ১২০০ টাকার তুলনায় বর্তমানে এর দামও নিম্নমুখী।
হিলি বাজারে মশলা কিনতে আসা পার্শ্ববর্তী পাঁচবিবি উপজেলার বাসিন্দা আব্দুল আহাদ জানান, যেহেতু হিলি দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে মশলা আমদানি হয়। তাই এখানে সব সময় সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য পাওয়া যায় এবং গুণগত মান ও ভালো। প্রতি বছরের মতো এবারও হিলি বাজার থেকে ঈদের জন্য মশলা কেনাকাটা করেছি৷ গত বছরের তুলনায় অনেক কম।
স্থানীয় ক্রেতা রাজা মিয়া বলেন, আর কয়েক দিন পরে পবিত্র ঈদুল আজহা। গত বারের তুলনায় মশলার দাম অনেক কম। বিশেষ করে সাদা এলাচ কেজিতে ১০০০ থেকে ১৩০০ টাকার বেশি কমে পাওয়ায় আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অনেক সুবিধা হয়েছে।
হিলি বাজারের বিসমিল্লাহ মশলা ঘর-এর স্বত্বাধিকারী মো. আওলাদ হোসেন জানান, ভারত থেকে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পরিমাণে মশলা আমদানি হওয়ার কারণে এবার বাজার বেশ স্থিতিশীল।
তিনি বলেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি ও খুচরা ক্রেতারা তত বেশি আসছেন। বর্তমানে বেচাকেনা বেশ ভালো। আমরা আশা করছি, ঈদের আগে বিক্রি আরও কয়েকগুণ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আমদানির এই ধারা অব্যাহত থাকলে এবং বাজার মনিটরিং ঠিক থাকলে ঈদের আগ পর্যন্ত মশলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকবে।
সময়ের আলো/আআ