ট্রাম্পের আচরণে বন্ধুত্বে ধস, শঙ্কিত ইউরোপ থেকে এশিয়া

সময়ের আলো ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউরোপের অন্যত্র সেনা কমিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন এমনকি

2026-05-11T06:19:38+00:00
2026-05-11T06:19:38+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের আচরণে বন্ধুত্বে ধস, শঙ্কিত ইউরোপ থেকে এশিয়া
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ৬:১৯ এএম 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জার্মানি থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইউরোপের অন্যত্র সেনা কমিয়ে আনার হুমকি দিয়েছেন এমনকি গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্রের ওপর ইরানের সাম্প্রতিক হামলাকে হালকাভাবে নিয়েছেন। 

তার এই সর্বশেষ পদক্ষেপগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য স্থায়ী পরিণতি হতে পারে ‘মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্রমাবনতি।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ১০ সপ্তাহের যুদ্ধ সংঘাত নিরসনের পথে ধীরে ধীরে এগোচ্ছে ঠিকই; কিন্তু ট্রাম্পের কথা ও কাজ ইউরোপ থেকে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত ওয়াশিংটনের পুরোনো বন্ধুদের মধ্যে এক পুরোনো ভয় নতুন করে উসকে দিয়েছে। 

আর সেই শঙ্কা হলো, ভবিষ্যতের কোনো সংকটে যুক্তরাষ্ট্র নির্ভরযোগ্য মিত্র নাও হতে পারে।

এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ঐতিহ্যবাহী অংশীদার নিজেদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার পথ খুঁজতে শুরু করেছেন। যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়ার মতো মার্কিন প্রতিপক্ষ এই কৌশলগত সুযোগ কাজে লাগাতে তৎপর।

ট্রাম্পের শুরু করা ইরান যুদ্ধ বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ক্ষেত্রে স্থায়ী কোনো মোড় ঘোরাবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। 

তবে বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ফিরে আসার পর থেকে ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণ বৈশ্বিক শৃঙ্খলাকে ওলটপালট করে দিয়েছে এবং মিত্রদের আরও ক্ষতির মুখে ফেলছে। 

বিশেষ করে ন্যাটোর ওপর তার ক্ষোভ অব্যাহত। কারণ এই সামরিক জোটটি তার যুদ্ধকালীন দাবি অনেকাংশেই প্রত্যাখ্যান করেছে।

ওবামা প্রশাসনের সাবেক উপদেষ্টা ও সিচুয়েশন রুম কৌশলগত পরামর্শক সংস্থার প্রধান ব্রেট ব্রুয়েন বলেন, ইরান প্রশ্নে ট্রাম্পের বেপরোয়া মনোভাব নাটকীয় কিছু পরিবর্তন ঘটাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতা এখন সংকটে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প ইসরাইলের সঙ্গে মিলে ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে ইউরোপীয়দের সঙ্গে উত্তেজনা বিশেষভাবে বেড়েছে। 

কোনো প্রমাণ ছাড়াই ট্রাম্প দাবি করেন, তেহরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির দ্বারপ্রান্তে। ইরান পাল্টা জবাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে যে অভূতপূর্ব বৈশ্বিক জ্বালানি বিপর্যয় সৃষ্টি করে, তাতে ইউরোপীয় দেশগুলোই সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হয়েছে। তা আবার এমন এক যুদ্ধে যা তারা কখনোই চায়নি।

এমনিতেই আগে থেকেই ট্রাম্প বড় আকারের শুল্ক আরোপ করে, ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড দখলের ইঙ্গিত দিয়ে এবং ইউক্রেনের সামরিক সাহায্যে কোপ বসিয়ে মিত্রদের আতঙ্কিত করে তুলেছিলেন। 

এরপর কদিন আগেই জার্মানিতে নিযুক্ত ৩৬ হাজার ৪০০ মার্কিন সেনার মধ্যে ৫ হাজার জনকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প সম্পর্কের চিড় আরও বড় করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস প্রকাশ্যে বলেছিলেন, ইরানিরা যুক্তরাষ্ট্রকে অপমান করছে, তাতে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন। 

এরপর পেন্টাগন জার্মানিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যে ন্যাটো জোট গড়তে সাহায্য করেছিল, তাতে থাকা উচিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন করে আসছেন ট্রাম্প। এবার তিনি জানালেন, ইতালি ও স্পেনে মার্কিন সেনা কমানোর কথাও ভাবছেন। কারণ এই দুই দেশের নেতৃত্বের সঙ্গেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার মতবিরোধ চলছে।

মিত্রদের সঙ্গেই দ্বন্দ্ব : ট্রাম্প কিছুদিন ধরেই অভিযোগ করছেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করতে মিত্ররা যথেষ্ট ভূমিকা পালন করছে না। তার বক্তব্যের অর্থ হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের আর জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা (৫ অনুচ্ছেদ) মানার দরকার নেই। এর পরিপ্রেক্ষিতেই সেনা প্রত্যাহারের এই পদক্ষেপ।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্রদের প্রতি স্পষ্ট হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের জন্য ইউরোপীয় সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ দেশগুলো নাকচ করেছে। কেলি জোর দিয়ে বলেন, ট্রাম্প ‘বিশ্ব মঞ্চে আমেরিকার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছেন ও বৈদেশিক সম্পর্ক শক্তিশালী করেছেন’। 

তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে কখনো তথাকথিত ‘মিত্রদের’ দ্বারা অসৎ আচরণ ও সুযোগ নেওয়ার শিকার হতে দেবেন না।

এর আগে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নিশানা করে মার্চে উপহাস করে বলেছিলেন তিনি ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ এবং যুক্তরাজ্যের পণ্যে বড় শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন। 

ট্রাম্পের পেন্টাগন ইরান অভিযানে সমর্থন দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করা ন্যাটো মিত্রদের শাস্তি দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে, যার মধ্যে স্পেনের সদস্যপদ স্থগিত রাখা ও ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে ব্রিটেনের দাবির স্বীকৃতি পুনর্মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত।

ইউরোপীয় সরকারগুলো এর জবাবে নিজেদের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো, প্রতিরক্ষার দায়িত্ব বেশি করে নিজেদের কাঁধে তোলা এবং যৌথ অস্ত্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা জোরদার করেছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমে। 

পাশাপাশি ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে ট্রান্স আটলান্টিক মিত্রতা ধরে রাখার মূল্য আছে। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলেছেন, ট্রাম্পের হুমকি ইউরোপের জন্য নিজেদের নিরাপত্তায় আরও বিনিয়োগের স্পষ্ট সংকেত। তবে আপাতত নেতারা ঘুসি সহ্য করে লড়াই চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

‘মধ্যম শক্তি’ হিসেবে ইউরোপীয়দের সামনে বিকল্প সীমিত। বিশেষ করে রাশিয়ার সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কৌশলগত প্রতিরোধের জন্য পরাশক্তি মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের নির্ভরতার কারণে। 

বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় ধরনের স্বনির্ভরতায় পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যাবে। ইতিমধ্যে ট্রাম্পকে সন্তুষ্ট করতে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা চুপিসারে জোর দিয়ে বলছেন, ইরান অভিযানের সময় তাদের অনেক দেশই ভূখণ্ডের ঘাঁটি ও আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।

তবে বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ইউরোপীয় নেতাদের একাংশ যারা আগের সংকটে তোষামোদ করে ট্রাম্পকে সামাল দিয়েছিলেন, তারা এখন ট্রাম্পের আলোচনার কৌশল বুঝে গেছেন এবং তার মুখোমুখি দাঁড়াতে আগের চেয়ে বেশি সাহসী। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আমেরিকান-জার্মান ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জেফ রাথকে বলেন, আগের বৈঠকে মের্ৎস ট্রাম্পকে মুগ্ধ করলেও এখন তিনি ‘যুক্তরাষ্ট্র কী বিপদে জড়িয়েছে, তার কড়া মূল্যায়ন লুকাতে চেষ্টা করছেন না।’

ওই ইউরোপীয় কূটনীতিক আরও বলেন, ইউরোপীয়রা মনে রাখছে যে ট্রাম্প আইনত আর নির্বাচন করতে পারবেন না। ফলে ২০২৯ সালের জানুয়ারিতে বিদায় নেওয়ার আগে বিশ্ব মঞ্চে ‘তিনি যা খুশি করতে’ নিজেকে স্বাধীন বা স্বেচ্ছাচারী ভাবতে পারেন। 

ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কেউ কেউ সতর্কবার্তা দিলেও পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী  রাদোস্লাভ সিকোরস্কি ওয়ারশের এক সম্মেলনে বলেন, যদি ইউরোপ প্রতিশ্রুত প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি করে তবে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই। ট্রাম্পও দীর্ঘদিন ধরে একই দাবি করে আসছেন।

শঙ্কা ছড়িয়েছে এশিয়াতেও : মার্কিন জোটগুলোর ওপর চাপ শুধু ইউরোপেই সীমাবদ্ধ নেই। ইরান এ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালালে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেননি। এতে ইতিমধ্যে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। 

গত সোমবারের একটি হামলাকে ট্রাম্প দ্রুত ‘সামান্য’ বলে উড়িয়ে দেন, যদিও তাতে গুরুত্বপূর্ণ ফুজাইরাহ তেল বন্দরে আগুন ধরে যায় এবং সরকার স্কুল বন্ধে বাধ্য হয়। আরও কয়েকটি হামলার পরও তিনি জোর দিয়ে বলেন, এক মাস আগের যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে।

ট্রাম্প কিছু উপসাগরীয় মিত্রের পরামর্শ উপেক্ষা করে যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন। পরে তারা সংহতি জানালেও এখন কেউ কেউ ভাবছেন, ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করে ফেলতে পারেন যাতে তাদের সামনেই বিপজ্জনক এক প্রতিবেশী থেকে যায়।

এই যুদ্ধ এশীয় অংশীদারদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশগুলো সংঘাতের আগে প্রণালি দিয়ে সহজে আসা তেলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ছিল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ ট্রাম্পের উচ্চ শুল্ক ও ঐতিহ্যবাহী জোটগুলোর প্রতি অবজ্ঞায় ইতিমধ্যে বিরক্ত। 

এখন কেউ কেউ হয়তো ভাবতে পারেন, দেশের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক চাপের (যেমন পেট্রোলের উচ্চ মূল্য) কাছে ট্রাম্প যতটা অসহায়, তাতে চীন সংঘাতে জড়ালে (যেমন তাইওয়ানে আক্রমণ) এবং ট্রাম্পের কাছে সাহায্য চাইলে দ্বিধাগ্রস্ত হতে পারেন তিনি।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকা তাকেশি ইওয়াইয়া রয়টার্সকে বলেন, যে বিষয়টি আমাদের সবচেয়ে বেশি চিন্তিত করছে তা হলো, জাপান যে জোটকে সবচেয়ে বেশি মূল্য দেয় তার সবই সংকুচিত হয়ে আসছে। 

এর প্রভাব গোটা অঞ্চলের ওপর দীর্ঘ ছায়া ফেলতে পারে। জাপানের সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ইয়াসুতোশি নিশিমুরা বলেন, বৈশ্বিক শক্তির পালাবদলের জবাবে ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো ‘সমমনা মধ্যম শক্তির’ সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা এখন টোকিওর জন্য ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানের দীর্ঘকালীন মিত্র রাশিয়া ও চীন মোটের ওপর দূরে থাকলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। 

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে কারাকাসে মার্কিন অভিযানের পর ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধে কাঁচা শক্তি প্রয়োগের এই দৃষ্টান্ত চীন ও রাশিয়াকে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ জোরদার করতে উৎসাহী করতে পারে।

রাশিয়া জ্বালানি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ হিসেবে ইরান যুদ্ধে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের বাড়তি দামের সুবিধা পেয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিক্ষিপ্ত হয়েছে, সেটাও রাশিয়ার লাভ হয়েছে। ইরান সংকটে চীনের জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হলেও বেইজিং কিছু শিক্ষা পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। 

তারা দেখেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পদ সরাতে হয়েছে এবং সস্তা ড্রোনের মতো অপ্রতিসম কৌশলের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও কখনো কখনো বেশ খানিকটা বিপর্যস্ত হয়েছে।

চীন এই সুযোগে অপ্রত্যাশিত ট্রাম্পের চেয়ে নিজেদের বিশ্বস্ত বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের আগামী সপ্তাহে বেইজিং সফরের কথা রয়েছে। 

তবে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভিক্টোরিয়া কোটস বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে ‘আমরাই অস্থিতিশীলকারী শক্তি’ বলে বিশ্বে প্রচারের ‘খোলা ছাড়পত্র’ হিসেবে ব্যবহার করা বেইজিংয়ের জন্য কঠিন হবে। 

ওয়াশিংটনের রক্ষণশীল হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কোটস বলেন, ‘তারা তো পুরো বিষয়টিতে তাদের মিত্র ইরানের শক্ত অংশীদার হতে পারেনি।’

/এসএকে


  বিষয়:   ট্রাম্প  বন্ধুত্ব  ইউরোপ  এশিয়া  মার্কিন 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: