এতে কয়েকটি গ্রামের মানুষের মধ্যে গ্রেফতার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে গ্রেফতার এড়াতে এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে বলে জানান গ্রামবাসী। এ ঘটনায় গরুর খামারের মালিক আবু বক্কর বাদী হয়ে নিহত চোরসহ ৭-৮ জন চোরের নামে আরেকটি মামলা দায়ের করে। রোববার রাতে কালিয়াকৈর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছে বলে জানা যায়।
উত্তেজিত জনতা সন্দেহজনক চোরদের ব্যবহৃত ট্রাক আগুনে পুড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, কালিয়াকৈর উপজেলার ফুলবাড়িয়া পুলিশ ক্যাম্পের আওতায় বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে গরু চোর, ছিনতাই, মাদকসহ নানা ঘটনা ঘটে আসছে। এ নিয়ে পুলিশের তেমন কোনও ভূমিকা না থাকায় হতাশায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের যোগসাজশে এসব অপরাধমূলক কাজ চলছে।
এলাকার লোকজন গত কয়েকদিন ধরে রাতে বিভিন্ন স্থানে ৫ জনের একটি দলে পাহারা দিয়ে আসছে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার দিবাগত রাতে পিকআপ যোগে উপজেলার সলংগা এলাকায় ৮ থেকে ১০জন চোর চক্রের দল গরু চুরির চেষ্টা করলে, এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। পরে পিকআপটি ধরতে একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ধাওয়া করা হয়। ধাওয়া দিয়ে বাকচালা এলাকায় পৌঁছিয়ে পিকআপটির গতিরোধ করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা পিকআপটিতে আগুন দেয় এবং তিনজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সেলিম নামে একজন নিহত হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়িটির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে গাড়িটি পুড়ে যায়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাইজুদ্দিন আহম্মেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বাকচালা এলাকার আবু বকর বাদী হয়ে রোববার দুপুরে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
কালিয়াকৈর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’