বর্ষাকাল এলেই কাঁচা রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলে সৃষ্টি হয় চরম ভোগান্তি। ছোট ছোট গর্তে পানি জমে থাকা এবং মাঠ নিচু হওয়ায় সেটি খেলাধুলার অযোগ্য হয়ে পড়ে। ফলে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার ভালুকাকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের যেন শেষ নেই।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণের পর একটি একতলা ভবন পেলেও অবকাঠামোগত অন্য উন্নয়নগুলো যেন সেখানেই থমকে আছে। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা ও মাঠ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ।
নালিতাবাড়ী সদর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ভালুকাকুড়া। হালুয়াঘাট উপজেলা সংলগ্ন শিক্ষায় পিছিয়ে পড়া এই গ্রামটিতে শিক্ষার আলো ছড়াতে ২০০৭ সালে স্থানীয় উদ্যোগে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১০ সালে এটি সরকারি অনুমোদন পায় এবং ২০১৩ সালে সরকার বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করে। ২০১৯ সালে এখানে একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ১৪৩ জন শিক্ষার্থী ও ৪ জন শিক্ষক নিয়ে ফলাফলের দিক থেকেও বিদ্যালয়টি বেশ এগিয়ে রয়েছে।
নালিতাবাড়ী-হালুয়াঘাট পাকা সড়ক থেকে বিদ্যালয়টির দূরত্ব মাত্র ৬শ মিটার। কিন্তু এই সংযোগ সড়কটি কাঁচা হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও কাদায় সয়লাব হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে পৌঁছাতে হিমশিম খায়। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের একমাত্র খেলার মাঠটি নিচু হওয়ায় সেখানে বৃষ্টির পানি জমে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এতে শিশুদের শারীরিক বিকাশের অন্যতম মাধ্যম খেলাধুলা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কর্দমাক্ত রাস্তায় চলতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পা পিছলে পড়ে গিয়ে বইখাতা ও স্কুল ড্রেস নষ্ট করে ফেলে।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার জানায়, স্কুলে আসার পথে রাস্তায় অনেক কাদা থাকে। প্রায়ই পা পিছলে পড়ে গিয়ে কাপড় ও বই নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের একটা পাকা রাস্তা খুব দরকার। আরেক শিক্ষার্থী বলে, রাস্তায় কাদার জন্য আমরা ঠিকমতো স্কুলে আসতে পারি না। মাঠও কাদায় ভরা থাকে, আমরা একটু খেলাধুলাও করতে পারি না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন, তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশার উদ্যোগে এই অবহেলিত গ্রামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা ফলাফলের দিক থেকে ভালো করছি, অথচ দীর্ঘদিনেও রাস্তাটি পাকা করা হয়নি। সামান্য বৃষ্টিতে মাঠটি খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। আমি দ্রুত রাস্তা পাকাকরণ ও মাঠে মাটি ভরাটের দাবি জানাচ্ছি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সায়েদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে বর্তমানে মাঠ ভরাটের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই। তবে ভবিষ্যতে সুযোগ এলে বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। রাস্তা পাকাকরণের বিষয়টি তার দফতরের এখতিয়ারভুক্ত নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) জানিয়েছে, বিদ্যালয় ভবনটি তারা নির্মাণ করলেও রাস্তাটি আগে আইডিভুক্ত ছিল না। সম্প্রতি রাস্তাটি আইডিভুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তীতে বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই