মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে কৃষকদের তিন ফসলি জমি ও সরকারি খাল দখলের অভিযোগ ওঠার পর সংসদ সদস্যের কঠোর হস্তক্ষেপে পিছু হটেছে অভিযুক্ত সাহারা ট্রেডিং লিমিটেড।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আলটিমেটামের মুখে দখলকৃত খালের মাটি সরিয়ে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করার কাজ শুরু করেছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
এর আগে সোমবার (১১ মে) বিকেলে উপজেলার চর বাউশিয়া বড়কান্দি এলাকায় ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরজমিন পরিদর্শনে যান মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন। পরিদর্শন শেষে তিনি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, জনস্বার্থ বিঘ্নিত করে কোনো খাল বা কৃষিজমি দখল বরদাস্ত করা হবে না।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, এস্কেভেটর দিয়ে খালের প্রবেশমুখ থেকে মাটি সরিয়ে পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত এই খালটি কৃষি সেচের প্রধান উৎস। গত কয়েকদিন ধরে রাতের আঁধারে বালু ভরাট করে খালের একাংশ দখল করে নিয়েছিল সাহারা গ্রুপ।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, খালটি আমাদের প্রাণের স্পন্দন। বাঁধ দেওয়ার কারণে সেচকাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এমপি সাহেবের হুংকারে কাজ হয়েছে এখন তারা অবৈধ বাঁধ সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
আরেক বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। খাল দখল ও পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এখন খালের বাঁধের মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পানি চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। আমাদের দাবি খালটি যেন পুনরায় খনন করা হয় যাতে পানি প্রবাহ আরও বৃদ্ধি পায়।
দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে সাহারা ট্রেডিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আলী আহম্মদ দাবি করেন, আমরা খাল দখল করিনি। শ্রমিকদের চলাচলের সুবিধার জন্য সাময়িকভাবে খালের ওপর মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। এমপির নির্দেশনার পর আজ সেটি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জমি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি আরও জানান, কোনো জমি ভরাট হয়ে থাকলে উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে তারা বাজারমূল্যে তা কিনে নেবেন।
গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, কারো জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়ে থাকলে লিখিত অভিযোগ দিন। অভিযোগ পেলে আমরা দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।
সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন বলেন, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আমি আপসহীন। খাল, কৃষিজমি কিংবা সরকারি জায়গা দখল করে কোনো অবৈধ স্থাপনা গড়তে দেওয়া হবে না।
সময়ের আলো/জোই