রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছেন ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার পুটিজানা ইউনিয়নের যুবক মো. আব্দুর রহিম (৩০)। রাশিয়ান বাহিনীর পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে গত ৪ মে তিনি ড্রোন হামলায় গুলিবিদ্ধ হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর গত রোববার (১০ মে) তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম।
আব্দুর রহিম ফুলবাড়ীয়ার পুটিজানা গ্রামের মো. আজিজুল হকের তিন ছেলের মধ্যে সবার বড় ছিলেন।
শুক্রবার রাতে রহিমের বন্ধু ও নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন দত্ত ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে পরিবারকে মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। লিমন নিজেও ওই একই ক্যাম্পে ছিলেন এবং ড্রোন হামলায় একটি পা হারিয়ে বর্তমানে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিমনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ড্রোন হামলায় রহিমের সঙ্গে রিয়াদ নামে আরও এক বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য প্রাণ হারান।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে রহিমের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। জীর্ণ টিনের ঘরের দাওয়ায় মা রমিছা খাতুন সন্তানের শোকে বিলাপ করছেন। ছোট দুই ভাইয়ের পড়াশোনা ও পরিবারের হাল ধরতে দেড় বছর আগে ঋণ করে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন রহিম। সেখান থেকে গত জানুয়ারি মাসে (২০২৪) এক দালালের মাধ্যমে রাশিয়ায় পাড়ি জমান।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রাশিয়ায় গিয়ে একটি তেল-গ্যাস কোম্পানিতে কাজ শুরু করেছিলেন রহিম। কিন্তু রাশিয়ান নাগরিকত্ব এবং এককালীন মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভনে গত ১ মে তিনি রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে চুক্তিতে যোগ দেন। যোগদানের মাত্র একদিন পরেই ড্রোন হামলায় তিনি মারাত্মক আহত হন।
মঙ্গলবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ কামরুল হাসান মিলন। এ সময় তার সাথে ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ। ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম। পুটিজানা ইউপি প্রশাসক রওশন জাহান।
প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন এবং রহিমের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
নিহতের বাবা আজিজুল হক বলেন, সংসারের অভাব দূর করতে জমি বিক্রি ও ঋণ করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। এখন আমাদের সব স্বপ্ন শেষ। ঋণের বোঝা কীভাবে বইব জানি না।
ছোট ভাই হাফেজ আ. রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ভাইয়ার স্বপ্ন ছিল ফিরে এসে আমাদের একটা পাকা ঘর করে দেবেন। এখন আমাদের একটাই দাবি, ভাইয়ার লাশটা যেন অন্তত একবার দেখতে পাই। সরকার যেন লাশটা দেশে আনার ব্যবস্থা করেন।
দেশের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে আব্দুর রহিমের পুরো পরিবার।
সময়ের আলো/জোই