ভারতের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া জেট ফুয়েলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আকাশপথের নানা বিধিনিষেধের কারণে ঢাকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রুটে প্রায় ৪০০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে। মূলত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানো এবং দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের এই ব্যস্ত মৌসুমে ফ্লাইট স্থগিত বা সংখ্যা হ্রাসের ফলে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী বিপাকে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সূচি অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের একাধিক রুটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে মুম্বাই-ঢাকা রুটের ফ্লাইটটি আগামী আগস্টের শেষ পর্যন্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লি-সাংহাই, চেন্নাই-সিঙ্গাপুর এবং দিল্লি-মালে রুটটিও একই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
সিঙ্গাপুর ও ব্যাংকক রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা হয়েছে। যেমন, দিল্লি-সিঙ্গাপুর রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ২৪টি থেকে কমিয়ে ১৪টি এবং মুম্বাই-ব্যাংকক রুটে সাপ্তাহিক ফ্লাইট ১৩টি থেকে কমিয়ে ৭টি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কুয়ালালামপুর, হো চি মিন সিটি এবং হ্যানয় রুটেও ফ্লাইটের সংখ্যা হ্রাস করা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের ফ্লাইটগুলোতেও ব্যাপক কাটছাঁট করেছে সংস্থাটি। দিল্লি-শিকাগো রুটের ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে এবং দিল্লি থেকে সান ফ্রান্সিসকো, টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারগামী ফ্লাইটের সাপ্তাহিক সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে মুম্বাই-নিউয়ার্ক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়িয়ে প্রতিদিনের সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
ইউরোপের ক্ষেত্রে দিল্লি থেকে প্যারিস, কোপেনহেগেন, ভিয়েনা, জুরিখ ও রোম রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমানো হয়েছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন ও সিডনি রুটে প্রতিদিনের পরিবর্তে সপ্তাহে চারটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করবে এয়ার ইন্ডিয়া।
ভারতের বিমান সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স’ গত এপ্রিলেই সরকারকে এক চিঠিতে জানিয়েছিল, জেট জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে পুরো বিমান শিল্প চরম চাপের মুখে রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে কার্যক্রম বন্ধের উপক্রম হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব যাত্রীর ফ্লাইট বাতিল বা সময়সূচি পরিবর্তিত হয়েছে, তাঁদের জন্য বিকল্প ফ্লাইটে বুকিং, বিনা খরচে তারিখ পরিবর্তন অথবা টিকিটের পুরো অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আকাশপথের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে কার্যক্রমকে টেকসই করতেই এই সাময়িক রেশনালাইজেশন বা যৌক্তিক সমন্বয় করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস