উজানের দয়া থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই

হামীম কেফায়েত

মতামত

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন নিছক আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নয়। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের ছয় দশকের পানিসংকটের বিরুদ্ধে একটি

2026-05-15T05:06:03+00:00
2026-05-15T05:06:03+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
মতামত
উজানের দয়া থেকে বেরিয়ে আসার লড়াই
হামীম কেফায়েত
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৫:০৬ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন নিছক আরেকটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন নয়। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের ছয় দশকের পানিসংকটের বিরুদ্ধে একটি সার্বভৌম জবাব। একই সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত পানিকূটনীতির দীর্ঘ ও জটিল অধ্যায়ে এসে নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এই প্রকল্প অনুমোদনের মধ্য দিয়ে দেশের নদী ও পানি রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীর ওপর ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণ করা হবে। চলতি বছরের জুলাইয়ে কাজ শুরু হয়ে ২০৩৩ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে পদ্মা নদীনির্ভর দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ জমির পানিসংকট নিরসনে সহায়তা হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচটি নদী পুনরুজ্জীবিত হবে, কমবে লবণাক্ততা, ফিরবে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য এবং বাড়বে কৃষি ও মাছ উৎপাদন।

তবে এই প্রকল্পের গুরুত্ব কেবল সরকারি নথির সম্ভাবনার তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। যারা বছরের পর বছর শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে বালুচর জেগে উঠতে দেখেছেন, লবণাক্ততায় ফসল হারিয়েছেন কিংবা পানির অভাবে জমি পতিত রেখেছেন, তাদের কাছে এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাওয়া এক ধরনের আশ্বাস। কিন্তু এই আশ্বাসের পেছনের ইতিহাসও দীর্ঘ। আর সেই ইতিহাসের প্রশ্নগুলো আরও পুরোনো ও জটিল। 

১৯৭৫ সালে ভারত ফারাক্কা ব্যারাজ চালু করে। উদ্দেশ্য ছিল ভাগীরথী-হুগলি নদীতে পানি সরিয়ে কলকাতা বন্দরের নাব্যতা রক্ষা করা। সেই সিদ্ধান্তের মাশুল গুনতে হয়েছে বাংলাদেশকে। পদ্মার বুকে এখন যেখানে বালুচর, সেখানে একসময় বড় নৌকা চলত। 

যে নদীর পানিতে রাজশাহী থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত কৃষিজমি সিক্ত থাকত, সেই নদী এখন শুষ্ক মৌসুমে হাঁটুপানির সরু স্রোত হয়ে যায়। একসময় পদ্মায় বছরজুড়ে বড় নৌযান চলাচল করত। এখন শুষ্ক মৌসুমে ইঞ্জিনচালিত নৌকাও আটকে যায়।

সুন্দরবনে লবণাক্ততা বেড়েছে। মৎস্য সম্পদ কমেছে। উপকূলের মিঠাপানির ভারসাম্য ভেঙে পড়েছে। পশুর নদীসহ সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলোতে পানির পরিমাণ এতটাই কমেছে যে সেখানকার জীববৈচিত্র্য আজ হুমকির মুখে। বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বাড়ছে।

এই অঞ্চলের মানুষ এখন খাওয়ার পানির জন্যও সংগ্রাম করেন। চাষের পানির সংকট তো আরী গভীর। শুধু বাংলাদেশ নয়। ফারাক্কার উজানে বিহারের পাটনা পর্যন্ত গঙ্গার তলদেশ প্রায় ২০ ফুট উঁচু হয়ে গেছে। বন্যা ও পাড়ভাঙন তীব্র হয়েছে। ভারতের ভেতরে বিহারেও ফারাক্কা নিয়ে প্রবল অসন্তোষ রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়েছে বাংলাদেশ।

এই অবস্থার সমাধানে ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশ ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি সই করে। চুক্তিটিকে তখন ঐতিহাসিক বলা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এই চুক্তি বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করেনি।

চুক্তির সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি। ফারাক্কায় পানিপ্রবাহের তথ্য একমাত্র ভারত সংগ্রহ করে। বাংলাদেশের কোনো বিশেষজ্ঞ উজানে থেকে সেই তথ্য যাচাই করতে পারেন না। বাংলাদেশকে শুধু অন্ধের মতো বিশ্বাস করেই নিতে হয় যে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে।

চুক্তিতে গ্যারান্টি ক্লজ (ন্যূনতম পানিপ্রবাহ নিশ্চিতের বাধ্যতামূলক নিশ্চয়তা) নেই। আরবিট্রেশন ক্লজ (বিরোধ নিষ্পত্তির সালিশি ব্যবস্থা) নেই। ফলে চুক্তি লঙ্ঘন হলেও বাংলাদেশের হাতে কোনো কার্যকর আইনি অস্ত্র নেই। বছরের পর বছর বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি বলে অভিযোগ করেছে। কিন্তু প্রতিকার পাওয়ার কোনো পথ ছিল না। 

এখন সেই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালেই শেষ হচ্ছে। স্বয়ংক্রিয় নবায়নের কোনো ধারা নেই। নতুন চুক্তির জন্য নতুন আলোচনা দরকার। এই মুহূর্তে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের অনুমোদন তাই শুধু একটি নির্মাণ পরিকল্পনা নয়। এটি একটি কূটনৈতিক বার্তাও। বাংলাদেশ বলছে, উজানের দয়ার ওপর নির্ভর করে আর বসে থাকব না। নিজেদের সম্পদ নিজেরা ধরে রাখার সক্ষমতা তৈরি করব।

তিস্তার বিষয়টিও এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিস্তা চুক্তি আলোচনায় থাকলেও এখনও তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০১১ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে চুক্তিটি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার পিছু হটে। এরপর থেকেই চুক্তিটি অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে আছে।

এরপর থেকে প্রতিটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিস্তার প্রসঙ্গ আসে। প্রতিশ্রুতি হয়। তারপর আবার ঝুলে থাকে। ১৫ বছর ধরে একই চক্র চলছে। অথচ বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও জনজীবন তিস্তার পানির ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার পানিপ্রবাহ এতটাই কমে যায় যে, কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটে নদী পার হওয়া যায়। 

লালমনিরহাট থেকে গাইবান্ধা পর্যন্ত কৃষকরা সেচের পানির অভাবে বোরো মৌসুমে চাষ করতে পারেন না। হাজার হাজার একর জমি পতিত পড়ে থাকে। তিস্তার পানি না পাওয়ার ক্ষতি শুধু কৃষিতে নয়, মাছের আবাসস্থলও নষ্ট হচ্ছে। নদীর দুই পাড়ের মানুষের জীবিকা সংকটে পড়ছে। পরিবেশ বিপর্যস্ত হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ ত্বরান্বিত হচ্ছে।

২০২৪ সালে ভারতের ত্রিপুরায় দুম্বুর বাঁধের পানি আগাম না জানিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাংলাদেশে হঠাৎ বন্যা দেখা দেয়। বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ ভারতকে অভিযুক্ত করে। ভারত এটিকে স্বাভাবিক বর্ষার পানি বলে দাবি করে। এই একটি ঘটনাই বলে দেয়, বাংলাদেশ-ভারত পানিসম্পর্কে আস্থার ঘাটতি কতটা গভীর। 

দুই দেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। কিন্তু কার্যকর ও সমতাভিত্তিক কোনো যৌথ ব্যবস্থাপনা কাঠামো এখনও গড়ে ওঠেনি। প্রতিটি নদী নিয়ে আলাদা আলাদা বিরোধ। প্রতিটি বিরোধ দশকের পর দশক ঝুলে থাকে। অথচ আন্তর্জাতিক আইনে নিম্নভাটির দেশের ন্যায্য পানিপ্রাপ্তির অধিকার সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা এই আইনি ভিত্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এখনও করতে পারেনি।

এই বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যে নদী ও পানিনীতি গ্রহণ করেছে, তা দুই স্তরে কাজ করছে। এক স্তরে পদ্মা ব্যারাজের মতো মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি পানি নিরাপত্তার কাজ। অন্য স্তরে তৃণমূল পর্যায়ে খাল পুনরুজ্জীবনের কাজ।

১৯৭৭ সালে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। সেটি ছিল একটি জাতীয় আন্দোলন। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮১ সালের মধ্যে ২৭৯টি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন হয়েছিল। বর্ষার পানি ধরে রাখা, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌযোগাযোগ পুনরুদ্ধার- সবকিছুর কেন্দ্রে ছিল সেই উদ্যোগ। গ্রামীণ অর্থনীতিতে সেই কর্মসূচির প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

জিয়াউর রহমান শহিদ হওয়ার পর কর্মসূচি মুখ থুবড়ে পড়ে। দশকের পর দশক অবহেলায় খালগুলো ভরাট হয়ে যায়। জলাবদ্ধতা বাড়ে। শুষ্ক মৌসুমে সেচের সংকট তীব্র হয়। যে খালগুলো একসময় কৃষকের প্রাণ ছিল, সেগুলো দখল হয়েছে, ভরাট হয়েছে, অনেক জায়গায় নামচিহ্নও নেই।

এখন পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনর্খননের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলা থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। একই দিনে দেশের ৫৩টি জেলায় একযোগে খাল খনন শুরু হয়। 

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই কর্মসূচির ফলে জলাবদ্ধতা কমবে। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে। উত্তরাঞ্চলের মরুকরণ রোধ হবে। পাশাপাশি গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরিতেও এই কর্মসূচি ভূমিকা রাখছে। শ্রমিকদের দিয়ে খাল খনন করায় কাজের বিনিময়ে মজুরির একটি সামাজিক সুরক্ষার মাত্রাও এতে যুক্ত হয়েছে।

পদ্মা ব্যারাজ এবং খাল খনন কর্মসূচি পরস্পরের পরিপূরক। পদ্মা ব্যারাজ দেশের প্রধান নদীতে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করবে। খাল খনন কর্মসূচি সেই পানিকে গ্রামের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে দেবে। 

একটি ছাড়া অন্যটি অসম্পূর্ণ। তবে পদ্মা ব্যারাজ সফল হবে কি না, তা অনেকটা নির্ভর করছে উজানে পানিপ্রবাহের ওপর। ফারাক্কার ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এখানে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

এই সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী ও ন্যায্য চুক্তি আদায় করতে হবে। সেই চুক্তিতে থাকতে হবে গ্যারান্টি ক্লজ। যৌথ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা। আরবিট্রেশনের বিধান। তিস্তা চুক্তিও সমান গুরুত্বে আলোচনার টেবিলে রাখতে হবে। এই দুটি বিষয়ে আলাদাভাবে নয়, একটি সমন্বিত পানিকূটনীতির কাঠামোতে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে।

শুধু ভদ্রতার কূটনীতি দিয়ে নদীর অধিকার আদায় হয় না। দরকার স্পষ্ট অবস্থান। দরকার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার। দরকার জনমত গঠন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই অন্যায়ের বিষয়ে সচেতন করা। পদ্মা ব্যারাজ শুধু একটি কংক্রিটের বাঁধ নয়। এটি বাংলাদেশের ঘোষণা যে আমরা নিজেদের নদী নিয়ে নিজেরাই ভাবতে শিখেছি। আর খাল খনন কর্মসূচি হলো সেই ঘোষণার জমিনপর্যায়ের রূপ।

বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এই দেশের সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং অর্থনীতি গড়ে উঠেছে নদীকে ঘিরে। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা শুধু নদীর নাম নয়, এগুলো এই দেশের পরিচয়। সেই পরিচয়কে বাঁচিয়ে রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। 

দুটি উদ্যোগ মিলিয়ে যে রাষ্ট্রীয় দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হচ্ছে, তা বলছে বাংলাদেশ এখন কেবল উজানের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা একটি দেশ নয়। এটি এমন একটি দেশ যে তার নদী, পানি এবং ভবিষ্যৎ নিজেই নির্মাণ করতে চায়।

লেখক : চিফ আর্টিস্ট, দৈনিক সময়ের আলো


  বিষয়:   পদ্মা  প্রকল্প  বাংলাদেশ  ভারত 


Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: