মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দুর্গম সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত উগ্রবাদী সংগঠন ‘মাকতাবাহ আল হিম্মাহ আদদাওয়াতুল ইসলামিয়াহ’-এর এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত মো. রাহেদ হোসেন মাহেদ (২৩) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন চাকরিচ্যুত সদস্য।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর আড়াইটার দিকে ভারত সীমান্তবর্তী বোবারথল ষাইটঘরি এলাকার একটি টিলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বড়লেখা থানা পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করেছে।
গ্রেফতারকৃত মাহেদ সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার দশঘর গ্রামের নূর মিয়ার ছেলে। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে, যা বর্তমানে সিটিটিসি ইউনিট তদন্ত করছে।
পুলিশ ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, নিষিদ্ধ উগ্রবাদী সংগঠনের অন্যতম সদস্য ইশতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর আবু মোহাম্মদের সঙ্গে চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য মাহেদের নিয়মিত যোগাযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়।
এই জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতার প্রেক্ষিতে গত ২৩ এপ্রিল পুলিশ সদর দফতর থেকে দেশজুড়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করা হয়। জাতীয় সংসদসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে পাঠানো সেই ‘গোপনীয়’ চিঠিটি পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই মাহেদকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়।
রেড অ্যালার্ট জারির পর থেকেই মাহেদ আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তিনি বড়লেখা উপজেলার বোবারথল সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
খবর পেয়ে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. রিয়াজুল ইসলামের নির্দেশনায় বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপী শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের একপর্যায়ে দুপুরের দিকে একটি টিলা থেকে তাকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
বড়লেখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাহেদ উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে রাতেই সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উগ্রবাদী এই চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই